ওয়ারীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার, দোষ স্বীকার
-
অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ (ডানে)
বাংলাদেশের রাজধানীর ওয়ারী থানার বনগ্রাম এলাকায় ছয় বছরের শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার ডাবরডাঙা এলাকা থেকে হারুন অর রশিদ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ওয়ারীর বনগ্রামের যে বহুতল ভবনে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে, তার সপ্তম তলার ভাড়াটিয়া পারভেজের বাসায় থাকত হারুন। আর শিশুটি পরিবারের সঙ্গে থাকত ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে। সে পারভেজের রং এর দোকানে কাজ করত। আজ (রোববার) সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার ডাবরডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ আবদুল বাতেন বিপিএম, পিপিএম (বার)।
ডিবি প্রধান বলেন, "গত ৫ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার স্কুল ছাত্রীকে তার নিজ বাসভবনে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ভিকটিমের বয়স ছিল ৬ বছর এবং সে সিলভার ডেল স্কুলে নার্সারিতে পড়াশোনা করত। এ বিষয়ে ভিকটিমের পিতা মোঃ আঃ সালাম ওয়ারী থানায় অভিযোগ করলে একটি মামলা রুজু হয়। ঘটনার পরপরই ওয়ারী থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিম আসামিকে গ্রেফতার করতে সামর্থ্য হয়।"
প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ভিকটিমকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়ে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান। আব্দুল বাতেন বলেন, "শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর নাম করে আট তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায় হারুন অর রশিদ। এরপর তাকে নয়তলার খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকে সামিয়া। সামিয়াকে মৃত ভেবে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে সামিয়ার অচেতন দেহ রান্নাঘরে সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায়।"
ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত কুরুচির পরিচায়ক। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরণের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর ভাবে, এ অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না। তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। এই ক্ষেত্রেও তাই ঘটিয়েছে ঘাতক হারুন।’
রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের স্কুল ছাত্রী সাত বছরের শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর নাম করে আট তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায় হারুন অর রশিদ। এরপর তাকে নয়তলার খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকে সামিয়া। সামিয়াকে মৃত ভেবে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে সামিয়ার অচেতন দেহ রান্নাঘরে সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায়।
ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন শেষে সামিয়ার বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ‘"আমার পরীর মতো মেয়েকে যেভাবে কষ্ট দিয়ে মেরেছে তারও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে তার ফাঁসি চাই।"
এ সময় তিনি বলেন, "আমি নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। মেয়েটা মাকে বলেছে, মা মাত্র ১০ মিনিটের জন্য ওই বাসায় যাব, আর একটু খেলে চলে আসব। এসে তোমার পড়াগুলো দিয়ে দেব। এরমধ্যেই তাকে আর পাওয়া গেল না। গত তিনদিন ধরে পরিবারের কেউ মুখে পানিও দেয়নি। সবাই সামিয়ার কাপড়-চোপড় নিয়ে কান্নাকাটি করছে।"
সামিয়ার বাবা বলেন, "দেশবাসীকে একটা কথা বলতে চাই, যাদের মেয়ে বাচ্চা আছে, তারা আগলে রাখবেন। এক মুহূর্তের জন্য আড়াল হতে দেবেন না। এইসব নরপিশাচদের হাত থেকে খেয়াল রাখবেন।"
গত শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে ওয়ারীর বনগ্রাম মসজিদের সামনের ভবনের নির্মাণাধীন একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু সামিয়া আফরিন সায়মার লাশ। সে সিলভারডেল স্কুলের ছাত্রী ছিল।
গতকাল (শনিবার) বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সায়মার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন সোহেল মাহমুদ। তদন্ত শেষে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘বাহ্যিকভাবে শিশুটির গলায় রশি দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার ঠোঁটে কামড়ের চিহ্ন এবং যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এ আলামত আমরা পেয়েছি। এ ব্যাপারে আরও স্পষ্ট হতে হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াবের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। এসব প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিশুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭