কাশ্মীর ইস্যু: বিএনপির নিরবতা, র্যাবের হুঁশিয়ারি ও ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতি
-
বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে প্রতিবাদ সমাবেশ
কাশ্মীর ইস্যুতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র রহস্যজনক নিরবতায় ক্ষুব্ধ দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা। গত চার দিনে বিএনপি নেতারা তাদের বক্তৃতায় বা কোনোপ্রকার বিবৃতি দিয়েও দলটি তাদের আবস্থান জানান দেয়নি। অথচ ভারতের এক বিজেপি নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে বিএনপি বিবৃতি দিয়ে শোক প্রকাশ করে সহমর্মিতা দেখিয়েছে।
ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ
ওদিকে, বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হুঁশিয়ারির মাঝেও ‘কাশ্মীর সংহতি পরিষদ’র ব্যানারে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন যৌথভাবে আজ জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। তাছাড়া রাজধানীর বাইরেও সংহতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
কাশ্মীর ইস্যুতে জলঘোলার চেষ্টা হলে ব্যবস্থা: বেনজীর
বাংলাদেশের র্যাপিড একশন ব্যাটিলিয়ন (র্যাব)–এর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ আজ রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, এ নিয়ে বাংলাদেশে কেউ জলঘোলা করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক চুলও ছাড় দেয়া হবে না।
কাশ্মীর কার্যত অবরুদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন: ওয়ার্কার্স পার্টি
অপরদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী জোটের শরীক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা পাল্টিয়ে দেয়া ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভাগ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও, এই অঞ্চলে এ পরিস্থিতির এক গভীর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত আছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ কাশ্মীর জনগণের ইচ্ছানুসারে কাশ্মীরের সমস্য শান্তিুপূর্ণ সমাধান চেয়েছে বরাবর।
জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন দলটির পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কাশ্মীরের সম্প্রতি পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। সংবাদপত্র সূত্র অনুযায়ী কাশ্মীর সম্পর্কিত গৃহীত ব্যবস্থার পর কাশ্মীর কার্যত অবরুদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। কাশ্মীরের নেতৃবৃন্দ অন্তরীণ অথবা কারারুদ্ধ।
আজ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি সাধারণ সম্পাদক ডি. রাজা কাশ্মীরে বিধায়ক ইউসুফের খোঁজ নিতে শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে উদ্বিগ্ন না করে পারে না।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আশা করে কাশ্মীরের জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্য শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রশমন ঘটবে এবং সিপিএম ও সিপিআই নেতৃবৃন্দসহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে দু’টি যুদ্ধ হয়েছে এবং কাশ্মীর প্রশ্নে এ অঞ্চলে শান্তি স্থিতিশীলতা সহযোগিতা প্রধান বাঁধা হিসাবে রয়েছে। পাকিস্তানের সহায়তায় কাশ্মীরে জিহাদী ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রম ভারতের নিরাপত্তাকেও বার বার বিঘ্নিত করেছে। পাকিস্তান আমলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে পাকিস্তান শাসকেরা কাশ্মীর ইস্যুকে ব্যবহার করেছে। বর্তমানেও এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে জিহাদী ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রম বিস্তৃত হবার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।