কর্মের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামকে ধারণ করাই গুরুত্বপূর্ণ: ওবায়দুল কাদের
-
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৮টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে নজরুলে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কাদের বলেন, “আমাদের সেরা বাঙালীদের একজন নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, যৌবনের কবি, প্রতিবাদের কবি, অগ্নিবীণার কবি। সেই কবি নজরুল ইসলামের সমাধিতে এসেছি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে, আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে।”

জাতীয় কবির স্মৃতি সংরক্ষণের যে দাবি কবি পরিবারের পক্ষ থেকে রয়েছে তার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় কবি হিসেবে তিনি (নজরুল) গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত। সবার মুখের কথা নয়, এটা আমাদের বিশ্বাসে, আমাদের প্রতিটি কর্মেই আমরা প্রমাণ করছি। আমরা প্রত্যেকে কর্মে জাতীয় কবি হিসেবে তার চেতনাকে ধারণ করছি। তার স্বপ্নকে ধারণ করছি এটাই বড় কথা। জাতীয় কবি হিসেবে তাকে সম্মান করছি শ্রদ্ধা করছি এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বিএনপির পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিতে হবে আমাদের।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর কোরআনখানির মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নজরুল অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির কথা বলেছিলেন। এই মূল্যবোধগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বলেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কবিতা-সাহিত্যকর্ম অসাধারণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। কবিকে আমরা স্মরণ করি সমাজের বিভিন্ন অসংগতির সময়ে। কবির প্রাসঙ্গিকতা সবসময় সমকালীন। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এই আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় কাজের একটি।’
জাতীয় কবিতা পরিষদ, নজরুলসংগীতশিল্পী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। দলে দলে কবিকে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
১৯৭৬ সালের ১২ ভাদ্র শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।
১৩০৬ বঙ্গাব্দে ১১ জ্যৈষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক এবং অভিনেতাও ছিলেন নজরুল। তার কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনা-পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই বাজেয়াপ্ত হয় তার লেখা, কারাবরণ করেন নজরুল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও তার কবিতা ও গান ছিল প্রেরণার উৎস।
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো এ মহান পুরুষ।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৪ মে নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে সপরিবারে এদেশে নিয়ে আসেন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে তাকে সম্মানসূচক ডি. লিট. উপাধি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে সাম্যের কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।