বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে: শেখ হাসিনা
-
পদক গ্রহণের পর বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, প্রত্যয় ও শুভকামনা ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গত এক দশকে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারত স্থল সীমানা চুক্তি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছে। বাংলাদেশ ও ভারত উৎসবমুখর পরিবেশে দু'দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের জন্য বিশ্বে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০১৯’ গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে পদক তুলে দেন ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান উপদেষ্টা টি পি শ্রীনিবাসন ও সংস্থাটির চেয়ারপারসন দীনা দাস। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় অসামান্য অবদান, জনকল্যাণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি-সহযোগিতায় বিশেষ অবদান রাখায় ‘ড. কালাম স্মৃতিপদক-২০১৯’ পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পদক গ্রহণের করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ড. এপিজে আবদুল কালামের আদর্শ ও শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রবর্তিত ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন, মানে বাংলাদেশের জনগণকে সম্মানিত করেছেন। এই পুরস্কার আমাকে ও আমার সরকারকে আগামী দিনগুলিতে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সংরক্ষণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে জনগণের বৃহত্তর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অর্জনে কাজ করতে উৎসাহ যোগাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ড. আবদুল কালাম ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী একজন বিজ্ঞানী ও ভারতের স্বনামধন্য রাষ্ট্রপতি যাকে আমি সব সময়ই সম্মান এবং শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আমি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা থাকবে, সমস্যা থাকা খুব স্বাভাবিক, কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সবক্ষেত্রে একটা সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলে পরে সে সব দেশে উন্নয়ন করা অনেক সহজ হয়।
তিনি বলেন, সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা, পাশাপাশি যে সব বিষয়গুলো আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি আমাদের সব সময় চিন্তা করতে হবে জনগণকে নিয়ে। জনগণ যাতে সুফল পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা পদক্ষেপ নেই। সেজন্য একটা বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলায় আমরা সব সময় গুরুত্ব দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ড. কালাম পদক প্রদান উপলক্ষে মানপত্র পাঠ করেন ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারপারসন দীনা দাস।
মানপত্রে দীনা দাস বলেন, মর্ডান বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট শেখ হাসিনা যিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে, দ্রুত বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে (শেখ হাসিনা) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি, ভারতরত্ম ড. এপিজে আবদুল কালামের নামে ড. কালাম স্মৃতি আন্তর্জাতিক এক্সিলেন্স পদক দেওয়া হয়েছে।
মানপত্রে তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ড. আবদুল কালাম ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দু’দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য, অশিক্ষামুক্ত করে সমৃদ্ধি আনতে কাজ করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল থেকে কেরালার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি দেওয়া হয়।
২০১৫ সাল থেকে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, ভারতরত্ম ড. এপিজে আব্দুল কালামের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ পদক চালু করা হয়। মালদ্বীপ, ঘানা, মরিশাসসহ কয়েকটি দেশের প্রেসিডেন্ট এ পদক নিয়েছেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন