ক্যাসিনোর বৈধতা বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: কাদের
-
ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশে ক্যাসিনোকে বৈধতা দেয়া বা বাতিল করে দেয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্যাসিনোর বিষয়ে এখন হাঙ্গামা চলছে। এ সময় ক্যাসিনোকে নীতিমালার মধ্যে এনে চালু করা হবে নাকি একেবারেই পুরো আইডিয়াটা বাদ দেয়া হবে, এ বিষয়ে এখনো সরকারের উচ্চপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলাপ হয়নি।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন করা হলে সেখানে ক্যাসিনোও থাকবে, পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে কতজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে, সেই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে বেশ কিছু নেতা নজরদারিতে আছেন। নজরদারিতে যদি বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা থাকে, তাহলে সেটিও মানতে হবে।
অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, 'যেসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান তারা আগে কোন্ দলে ছিল তা দেখার সময় এখন না। এখন তো সবাই আওয়ামী লীগের নেতা। বাদ কোথায়? আগে কোন্ দলে ছিল, সেটা বলে তো লাভ নেই। আমি আমার দলে নিলাম কেন? এখন সে আমার দলের পরিচয় ব্যবহার করছে। কাজেই আমি ঘর থেকেই অভিযান শুরু করেছি। অপকর্ম করলে কেউ-ই ছাড় পাবে না।'
এর আগে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। বৈঠকে সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুতে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব করে প্রতিনিধি দল।
ওবায়দুল কাদের জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রাখতে চাই না। তারা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়টিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এ সময়, ঝিনাইদহ থেকে ভোমরা স্থল বন্দর পর্যন্ত ১৬০ কিলোমিটার চারলেন সড়ক নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব করে তারা। এ বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া দেয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
এদিকে, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনায় অভিযুক্ত ঠিকাদার জি কে শামীমকে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন কাজের টেন্ডার দেয়া হয়েছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিপুল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে শামীম সরকারি কাজ পেতেন, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে যে বিষয়গুলো এসেছে, সেগুলোর আলোকে আমিও খতিয়ে দেখছি। তিনি সচিবালয়সহ অন্য সরকারি প্রকল্প ও র্যাবের হেড কোয়ার্টার নির্মাণ প্রকল্পেও ঠিকাদার। কীভাবে কাজগুলো হয়েছে, নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি-না, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্তেই সব তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে আসবে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৪
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন