ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটারদের কম উপস্থিতিতে ওবায়দুল কাদেরের অসন্তোষ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77189-ঢাকা_সিটি_নির্বাচনে_ভোটারদের_কম_উপস্থিতিতে_ওবায়দুল_কাদেরের_অসন্তোষ
সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারের ব্যাপক অনুপস্থিতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২০ ১৩:৪১ Asia/Dhaka
  • ওবায়দুল কাদের
    ওবায়দুল কাদের

সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারের ব্যাপক অনুপস্থিতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোটের রাজনীতিতে জনগণের অনীহা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। আওয়ামী লীগের এতো জনসমর্থন সেখানে আরও বেশি ভোট আশা করেছিলাম।

মন্ত্রী  জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে ওয়ার্কিং কমিটির সভা করে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা  হবে। তবে এসএসসি পরীক্ষা, আনা তিনদিনের ছুটি ও সরকারি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাও  ব্যাপক হারে ভোটার অনুপস্থিতির জন্য কিছুটা দায়ী বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের বোধদয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। এ উপলব্ধির ভিত্তিতে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের ওয়ার্ড পর্যায়েও ফলাফল জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ শাসক দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, এই ফলাফল জালিয়াতির সাথে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত। তারা গণমাধ্যমকে বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। অর্থের বিনিময়ে পরাজিত প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে আর বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত দেখানো হয়েছে।

ফল জালিয়াতি করে ভোটে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগসমর্থিত প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে  জালিয়াতির বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা দক্ষিণের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ফলাফল স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া হিসাবে আওয়ামী লীগসমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর ২৭ ভোটে বিজয়ী হলেও রাতে প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবায়েদ আদেলকে জয়ী দেখানো হয় ২১০ ভোটে। শনিবার রাতেই শেখ মোহাম্মদ আলমগীর রিটার্নিং অফিসে গিয়ে হাজির হন। কিন্তু কেউ-ই তখন তার অভিযোগ আমলে নেন নি।  

রোববার রিটার্নিং অফিসে গিয়ে ইভিএমের কপিসহ কাগজপত্র নিয়ে আবারও বিষয়টি জানান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। পরে রোববার সন্ধ্যায় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ফলাফল স্থগিত করেন দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা।

অর্থের বিনিময়ে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. সালাউদ্দিন রবিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগে রবিন উল্লেখ করেন,  রিটার্নিং অফিসের বরাতে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে  এবং অনলাইনে সালাউদ্দিন রবিনকে বিজয়ী করে সংবাদ পরিবেশন হয়। কিন্তু রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আমার নাম পরিবর্তন করে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভয়ংকর জালিয়াতি। ইসির সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন সালাউদ্দিন রবিন। তিনি ইভিএমের অরজিনাল কপি সরবরাহ করে ফলাফল পুনঃগণনার মাধ্যমে তাকে বিজয়ী ঘোষণার অনুরোধ করেন।

একইভাবে দক্ষিণের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সঠিক ফলাফল ঘোষণা এবং ভোট পুনঃগননার জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেন ঠেলাগাড়ি প্রতীকের সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী মো. বিল্লাল শাহ। তিনিও অভিযোগ করেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা না করে মৌখিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল জালিয়াতি আর গরমিলে ভরপুর।

ইভিএম কেলেঙ্কারি

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোটগ্রহণ দ্রুত সময়ের মধ্যে সহজে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা যায় এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা যায়। এমনটি  জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল,  খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিশিষ্ট নাগরিকরাসহ অনেকেই   ইভিএম-এ ভোট দিতে পাররেন নি। তাছাড়া, নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর মেয়র পদে ফল ঘোষণা করা হয়। আর কাউন্সিলরদের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় পুরো একদিন। ফলে জনমনে ইভিএম নিয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল তা এখন বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে যে  ইভিএম তেমন কোন কার্যকর পন্থা নয়।

এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন,  ইভিএমে ফল প্রকাশে তো এত সময় লাগার কথা না। আইনে বলা আছে, কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনী মালামাল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেবেন। ভোট হয়েছে ঢাকার মধ্যে। কেন্দ্র থেকে সরাসরি নিয়ে এলেও তো এত সময় লাগার কথা না। জনমনে প্রশ্ন তো তারাই তৈরি করেছেন। তারা এমন করেন বলেই জনমনে শঙ্কা-সন্দেহ তৈরি হয়; মানুষ ভোট দিতে যেতে চান না।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।