বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষাঙ্গণে এবং অভিভাবক পর্যায়েও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি এখন শিক্ষার চেয়েও নৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের এক সভায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরিক্ষায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরোধী শিক্ষকরা বলছেন, এখানে কারা প্রশ্ন করবেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় কারা থাকবেন, প্রশ্ন ফাঁসের প্রবণতা কীভাবে ঠেকানো যাবে, দলীয় প্রভাব কতটা থাকবে- এসব নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে। পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস বা অসাধু তৎপরতা প্রায় প্রতি বছরই খবরের শিরোনাম হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ রেডিও তেহরানকে বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটাছুটি না করিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে একটা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা যেতে পারে। এর ফলে কোচিং বাণিজ্যও বন্ধ হবে।
তবে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সদ্য বিদায়ী সভাপতি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি রেডিও তেহানকে বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম সংগ্রহ করা, কাগজপত্র প্রসেস করা, প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আলাদা আলাদা তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যাতায়াত ও থাকা খাওয়া বাবদ লক্ষাধিক টাকা খরচ করা সাধারণ আয়ের পরিবারের একজন ছাত্রের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্র জেলা পর্যায়ে সমন্বিত মূল্যায়ন পরীক্ষা ব্যবস্থা করে ছাত্র-ছাত্রীকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়া যেতে পারে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ভর্তি বাণিজ্যের কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুলতানা মোস্তফা খানম তার লিখিত নিবন্ধে মন্তব্য করেছেন, যদি শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও মার্যাদা বজায় রাখা মূল বিবেচ্য হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় বা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হবে আত্মঘাতী।
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. কাজী শহীদুল্লাহ জানান, “আমরা এখনো আশাবাদী। কেউ যদি না আসে তাহলে তাদেরকে বাদ দিয়েই আমরা এটা করতে চাই। কেউ যদি এক বছরের জন্য ‘অবস্থা পর্যবেক্ষণের’ কথা বলে না আসতে চায় তাহলে আমাদের তো কিছু করার নেই। যারা থাকবে তাদেরকে নিয়েই আমরা চলতি বছর থেকেই সমন্বিত ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু করতে কাজ করছি।”#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।