অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ
বাংলাদেশে আরও ২ করোনা রোগী শনাক্ত, ইউরোপ থেকে সব ফ্লাইট বাতিল
-
(বাম থেকে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশে ইতালি ও জার্মানি থেকে আসা দুই করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। নতুন এই দুজন নিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো। এর মধ্যে আগের তিনজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
আজ (শনিবার) রাত সাড়ে ৯টায় ইস্কাটনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আক্রান্ত দুজন আগেই বিদেশ থেকে এসেছেন। এদের মধ্যে একজন হোম কোয়ারেনটাইনে এবং একজন আইসোলেশনে ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) দুজনের দেহে করোনা উপস্থিতি চিহ্নিত করে। পরে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইতালি থেকে আসা ১৪২ জনসহ আশকোনার হজক্যাম্পে ১৮৪ জন কোয়ারেনটাইনে আছেন। এদের মধ্যে ইতালি ফেরতদের কাল সকালে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পর এদের সবাই ১৪ দিন বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেনটাইনে থাকবে।”

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯-এর বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটেন বাদে ইউরোপের বাকি কোনো দেশ থেকে যাত্রীবাহী কোনো ফ্লাইট বাংলাদেশে আসবে না। এছাড়া অনেক দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া হয়ে থাকে। সেসব দেশের নাগরিকদের এখন থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া হবে না।
রাত সাড়ে ৯টায় ইস্কাটনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে বাংলাদেশ থেকে যাত্রী নিচ্ছে না। আমরা সেসব দেশ থেকে কোনো যাত্রী নিচ্ছি না। আর যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে যাতায়াত বন্ধ থাকবে। আর শুধু যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। এছাড়া, কার্গো বিমান, কুরিয়ার থেকে শুরু করে স্থলবন্দর দিয়েও ব্যবসা-বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে। আর যেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, সেসব দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য কোয়ারেনটাইনে থাকতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের মঙ্গলের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। জনগণ যেন কোনোভাবে ঝুঁকির মুখে না পড়েন, সে কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের আকার পরিবর্তন করেছি। অনেক বড় আকারে এই অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জনস্বার্থে সেগুলো কাটছাঁট করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে হবে। তার এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল রোববার নয়াদিল্লি সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টা) ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সার্কভুক্ত আটটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে আলোচনা হবে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।