একদিনে সর্বাধিক আক্রান্ত ও মৃত্যু
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আরও ১০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৪১
বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৫৭২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এ নিয়ে মারা গেলেন ৬০ জন।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মহাখালীর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের মিলনায়তন থেকে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে দুই হাজার ১৩৫টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে দুই হাজার ১৯ জনের। এরমধ্যে ৩৪১ জনের পজেটিভ পাওয়া গেছে করোনাভাইরাস। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৭২ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে।
তিনি জানান, মৃতদের মধ্যে পুরুষ সাত এবং নারী তিনজন। তাদের মধ্যে ঢাকায় রয়েছেন ছয়জন। ঢাকার বাইরে ৪ জন।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, মৃত্যুবরণকারী একজনের বয়স ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, পাঁচজনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন তিনজন, এছাড়া একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে বর্তমানে আছেন ৪৬১ জন। এছাড়া এই সময়ে আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়ে ফিরে গেছেন নয়জন। এ নিয়ে মোট ছাড়পত্র পেলেন ৪৭১ জন।
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এবং তার দশ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যু ঘটে। তবে গত একদিনের মতো এত বেশি নতুন রোগী আর মৃত্যু বাংলাদেশকে আর দেখতে হয়নি।
আইইডিসিআর কর্মী করোনা আক্রান্ত
এদিকে, রোগতত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) চার জন কর্মী করোনা আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান, চারজনের করোনা ধরা পড়ার পর অন্যদের পরীক্ষা করা হয়েছে। আর কারও ধরা পড়েনি। তবে আমরা সবাই সেলফ কোয়ারেন্টিনে আছি। অন্য ভবন থেকে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। আক্রান্ত চারজনকে মহাখালীর সংক্রামকব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
করোনা আক্রমণের শুরুর দিকে রোগীদের নমুনা শুধু আইইডিসিআরেই পরীক্ষা হতো। শুরুর দিকে অনেকে সশরীরে হাজির হয়ে সেখানে নমুনা দিয়ে গেছেন। পরে অবশ্য সারা দেশে পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসক আক্রান্ত
গোড়ার দিকে নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি পিপিই সঙ্কটের কারণে এবং তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সংস্পর্শে এসে নারায়ণগঞ্জে ২৭ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) জেলার সিভিল সার্জনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী ডা. ইকবাল বাহার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে জেলা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ ও নারায়ণগঞ্জ তিনশ’ শয্যা হাসপাতালের সুপার ডা. গৌতম রায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাবেক বিএমএ সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরীও রয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবি
এদিকে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) দাবি করেছে, সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন মজুদ ও সরবরাহ করে সমন্বিত পরিকল্পিত শক্তিশালী চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়তে ব্যর্থ বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা উচিত।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর মন্ত্রণালয়ের কর্তারা শুধু বড় বড় কথাই বলেছেন। তাদের ব্যর্থতার কারণেই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন মারা গেছেন। তিনি সিলেটে করোনায় আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় আনতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দূরে থাক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আকুতি করেও পাওয়া যায়নি।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।