বাংলাদেশে করোনায় একদিনে ১৫ জনের মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ১৮৩৮
-
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরো ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৫ জনে। এছাড়া, নতুন শনাক্ত হয়েছেন আরো ২৬৬ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৩৮ জনে।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে মহাখালীর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের মিলনায়তনে অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে নিজ বাসা থেকে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২১৯০ জনের। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৬ জন। মারা গেছেন ১৫ জন। মৃত্যুটা আজকে একটু বেশি। এ নিয়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৯ জন, মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৮ জন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঘরে থাকি তাহলে আমাদের জয় হবে ইনশাআল্লাহ। লকডাউন ঠিকভাবে মেনে চললে করোনাভাইরাস ছড়াবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে এ যুদ্ধে জয়ী হবো। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। আক্রান্ত হবেন না। করোনা পরীক্ষা করান। নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচান।’
অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ২১ ভাগ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৯ ভাগ আক্রান্ত। নারী পুরুষ বিভাজনে দেখা যায় শতকরা ৬৮ ভাগ পুরুষ আর বাকি ৩২ ভাগ নারী। এই আক্রান্তের শতকরা ৪৬ ভাগই ঢাকা শহরে। এরপরেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। সেখানে মোট আক্রান্তের শতকরা ২০ ভাগ। এবং পরবর্তীতে আমরা গাজীপুর থেকে অনেক নতুন রোগী দেখতে পাচ্ছি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মুন্সীগঞ্জে দিনদিন রোগীর হার বাড়তে শুরু করেছে।
আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘ঢাকা শহরের মধ্যে আমরা আক্রান্তের বা সংক্রমণের সংখ্যা বিশ্লেষণ করেছি দেখেছি, বড়ভাবে যদি তাহলে মিরপুরে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আগে টোলারবাগে সংক্রমণের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন মিরপুরের বিভিন্ন অঞ্চল এবং টোলারবাগের পুরোটা ধরে যদি আমরা বলি, তাহলে শতকরা ১১ ভাগ সংক্রমণের হার সেখানে রয়েছে। এরপরেই রয়েছে মোহাম্মদপুর এলাকা যেখানে শতকরা ৪ ভাগ সংক্রমণের হার। এরপর ওয়ারী ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ৪ ভাগের মতো রোগী আছে। তারপরে উত্তরা এবং ধানমণ্ডিতে শতকরা ৩ ভাগ করে সংক্রমণের হার দেখা যাচ্ছে।’
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু ঘটে। তবে গত একদিনের মতো এত বেশি মৃত্যু বাংলাদেশকে আর দেখতে হয়নি।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।