করোনার সংক্রমণ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশে পরামর্শক কমিটি গঠিত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i79204-করোনার_সংক্রমণ_ও_চ্যালেঞ্জ_মোকাবিলায়_বাংলাদেশে_পরামর্শক_কমিটি_গঠিত
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ও বিস্তার রোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১৭ জন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে 'জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি' গঠন করেছেন সরকার।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ১৯, ২০২০ ১৬:০৯ Asia/Dhaka
  • করোনার সংক্রমণ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশে পরামর্শক কমিটি গঠিত

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ও বিস্তার রোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১৭ জন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে 'জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি' গঠন করেছেন সরকার।

আজ (রোববার) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে কমিটির সভাপতি এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকে সদস্য সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি  সরকারকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ, হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি, যে সব চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী চিকিৎসকসহ অন্যদের উৎসাহ প্রদানে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় ও কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন সংক্রান্ত গবেষণার বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।

গত ২৮ মার্চ ৮ জন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে আদেশে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং 'জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি'উভয় প্রয়োজনবোধে যেকোনো কমিটির এক বা একাধিক সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারবে। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য সংখ্যা বাড়াতেও পারবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

নতুন আক্রান্ত ৩১২, মৃত্যু ৭ জনের

এদিকে, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমনের সপ্তম সপ্তাহে নতুন করে আরও ৩১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪৫৬ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন আরও সাতজন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ জনে।

করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রোববার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

জাহিদ মালেক বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভেন্টিলেটর মেশিনে চিকিৎসা নিয়েছেন, এমন নয়জন রোগীর মধ্যে আটজনই মারা গেছেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়নি। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে আদেশ দেয়া হয়েছে। সারাদেশে ১০ হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায়ের নির্দেশনা থাকলেও তা পালন হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লকডাউন সঠিকভাবে পালন হচ্ছে না। আক্রান্ত লোকজন নতুন নতুন এলাকায় যাচ্ছেন। ফলে ওইসব এলাকার লোকজনও আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেড়ে যাচ্ছে।

বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দীতে ৫ চিকিৎসক আক্রান্ত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাঁচ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতালের পরিচালক উত্তম বড়ুয়া জানিয়েছেন, আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে দুজন মেডিসিন বিভাগ, একজন শিশু বিভাগ, একজন অবেদনবিদ্যা (এনেসথেসিয়া)  বিভাগ ও একজন বহির্বিভাগের চিকিৎসক।

আক্রান্ত পাঁচ চিকিৎসক কোনো রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্র বলছে, তাদের সন্দেহ, বহির্বিভাগের চিকিৎসক প্রথমে আক্রান্ত হন। পরে অন্যরা সংক্রমিত হন।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক গণমাধ্যমকে  বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হলে আসলে কে কীভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন, তা নিরূপণ করা কঠিন। তা ছাড়া রোগীরা রোগ গোপন করে হাসপাতালে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা রোগ গোপন না করলেও ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে রোগ ছড়াচ্ছে।

কুর্মিটোলার নার্সরা সন্তুষ্ট

এদিকে, দেরিতে হলেও অবশেষে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রাজধানীর সরকারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের আবাসিক ও খাবার সমস্যার সমাধান হয়েছে। তাদের জন্য রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে একটি আবাসিক হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হোটেল থেকেই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। খাবারের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নার্সরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।  

উল্লেখ্য, করোনার রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় চার শতাধিক নার্স ডিউটি করনছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদফতর থেকে তাদের বলা হয়েছিল, বাসা থেকে আসা-যাওয়া করে ডিউটি করলে তাদের পরিবারের সদস্যরা সংক্রমিত হতে পারেন। তাই তাদের জন্য আবাসিক হোটেলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তারা বাসা থেকে চলে আসার পর তাদের জন্য আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে হাসপাতালে ডিউটি করার পর তাদের ওই হাসপাতালের ফাঁকা ওয়ার্ড, ড্রেস চেঞ্জিং রুম ও ডরমেটরিতে কষ্ট করে থাকতে হয়। তাদের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবার তাদের দেয়া হয়। এ নিয়ে নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯