লকডাউনে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে বিভিন্ন সংগঠন, চলছে মৃতদেহ সৎকার কাজ
মানুষ মানুষের জন্য। এটাই বিশ্ব মানবিকতার ধর্ম। তাই বর্তমান সময়ের বিশ্বমহামারী করোনা কবলিত দেশে দেশে রাষ্ট্রের বাইরেও নানা সংগঠন, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং অজানা সংখ্যক মানুষ বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষদের বিশেষ করে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের প্রতি এরকম দায়িত্বপালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সকল ধর্মেই। 'জাতীয় তাফসির পরিষদ বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যান মাওলানা আহমেদ আবদুল কাইয়ুম প্রসঙ্গটিকে ব্যাখ্যা করে রেডিও তেহরানকে বলেছেন, পবিত্র কুরআন শরীফে বলা হয়েছে, 'অসহায়-দুঃখী মানুষদের যারা সাহায্য করে না আল্লাহতায়ালা তাদেরকেও সাহায্য করেন না।' তিনি হাদিসের বাণী উল্লেখ করে বলেন, 'যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে খায় কিন্তু তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে সে ব্যক্তি নবীর উম্মত হতে পারে না।'
বাংলাদেশেও করোনা প্রকোপের কারণে একটানা লকডাউন অবস্থার মাঝে আটকে পড়া উপার্জনহীন অসহায় মানুষদের জন্য সরকারের বাইরে নানা সামাজিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান বা স্বচ্ছল ব্যক্তি তাদের সামর্থ অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়াও স্বচ্ছল নাগরিকদের অনেকেই স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। রাজধানীর এরকম একজন উচ্চশিক্ষিত মধ্যবয়সী স্বচ্ছল নাগরিক নিজের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করে রেডিও তেহরানকে জানান, সরকার তাদের মতো পারিবারিক দায়মুক্ত নাগরিকদের একটা তালিকা তৈরি করে বর্তমান সংকটকালে চিকিৎসা সেবার বাইরে ত্রাণ বা নাগরিকদের সহায়তামূলক অন্য কোনো সেবামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে।
মৃতদেহ সৎকার
মানবতার কর্তব্য শুধু জীবিত মানুষের জন্য নয়, এ মুহূর্তে মৃত মানুষদেরও তা প্রয়োজন। বিশেষ করে করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন বা সৎকার নিয়ে যখন সংকট সৃষ্টি হয়েছে তখন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কয়েকটি ইসলামী সেবা সংস্থা। এদের একটি উল্লেখযোগ্য সংগঠন হচ্ছে আল-মারকাজুল ইসলামী, বাংলাদেশ। সংস্থাটির পরিচালনা বোর্ডের সদস্য মাওলানা সারওয়ার হোসেন রেডিও তেহরানকে জানান, তারা মৃত ব্যক্তির গোসল, জানাজা ও দাফন কাজ সমাধা করার জন্য আগে থেকেই সেবা দিয়ে আসছিল। করোনা প্রকোপের পর পরই ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাদের একটি স্বেচ্ছাসেবী দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা সুরক্ষা করে করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ স্থানান্তর করা হবে, কীভাবে তাদের দেহ ভাইরাসমুক্ত করারে গোসল এবং দাফন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে তারা রাজধানীতে করোনা শনাক্ত বা করোনা সন্দেহে মৃত এরকম শ’খানেক লাশ সৎকার করেছে। এ সব লাশর মধ্য অন্তত: তেরটি হিন্দু ধর্মবলম্বীর দেহও তারা শ্মশানে নিয়ে গেছে এবং শুরুর দিকে এমনকি শবদেহ চিতায় তুলতেও সাহায্য করেছে।
মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসবে এটাই বর্তমান সংকটকালে অসহায় মানুষদের একান্ত কামনা। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।