বাংলাদেশে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ৫ শতাধিক, মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবারের মতো একদিনে পাঁচশ ছাড়িয়ে গেছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন। এ নিয়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন মোট ৪ হাজার ৬৮৯ জন। একই সময়ে আরও ৪ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৩১ জন মারা গেলেন।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা আজকে একটু আশার আলো দেখছি, মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। মৃত্যু হয়েছে চারজনের। এঁরা সবাই পুরুষ। এঁদের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এঁরা সবাই ঢাকার। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন চারজন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১১২। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তিন হাজার ৬৮৬টি। এর মধ্যে ৫০৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট চার হাজার ৬৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।’
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান , গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা মোট ৩ হাজার ৬৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করেছি। এই সংখ্যা গতকালের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। এসব নমুনার মধ্যে ৫০৩টি নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে।
রমজান নিয়ে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, রমজান আমাদের সামনে। রমজানের তারাবির নামাজ নিয়ে এরই মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করেছে। মসজিদে ১২ জনের বেশি ব্যক্তি তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন না। মুসল্লিরা সবাই ঘরে তারাবির নামাজ আদায় করবেন। আপনারা সবাই সে নির্দেশনা মেনে চলবেন।
তিনি আরও বলেন, যারা রোজা থাকবেন, তাদের ইফতারের পরের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। লেবু, আদা দিয়ে শরবত খেতে পারেন। গরম পানি দিয়ে গার্গেল করতে পারেন। পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থবিধি যেগুলো রয়েছে, সেগুলোও সবাইকে যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান নাসিমা সুলতানা।
নগদ সেবায় প্রণোদনা
এদিকে করোনা পরিস্থিতির মাঝে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা ‘নগদ’ পরিবারের সকল উদ্যোক্তা, পরিবেশক, বিক্রয়কর্মীসহ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত কোনো কোনো কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবার ঘোষণা দিয়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুর্যোগের সময়ও মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে নগদের উদ্যোক্তা, পরিবেশক, বিক্রয়কর্মীসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিবেদিত কর্মীদের ও তাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রয়াস ও কৃতজ্ঞতা থেকেই 'নগদ' এ উদ্যোগটি নিয়েছে।
কর্মীদের নিরাপত্তা কথা বিবেচনা করে ডাক বিভাগে গত ২৫ মার্চ থেকে নগদ কর্মীদের 'হোম অফিস' থেকে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করেছে। কেউ যেন এই দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হন, সেজন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে যারা সরাসরি মানুষের সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করছে নগদ।
দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ডাক বিভাগ তাদের নগদ সেবার জন্য মার্চেন্ট টু মার্চেন্ট খরচ ৬ টাকায় নামিয়ে এনেছে তাছাড়া, গ্রাহক পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ ক্রয়ের ক্ষেত্রে মাশুল না নেয়া এবং মাসে প্রথম এক হাজার টাকা ক্যাশ আউটে চার্জ না নেয়ার সিদ্ধান্তও কার্যকর করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় বলে জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। সেই হিসাবে দেশে প্রথম মৃত্যুর পর ৩৭ দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১ জন এবং প্রথম আক্রান্তের পর ৪৭ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৮৯ জনে পৌঁছেছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/২৪