বন্ধুত্বের সম্পর্ক জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও ভারত: বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া
আগামী মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও জোরদার করার ব্যাপারে প্রতিবেশী উভয়দেশ সম্মত হয়েছে।
গতকাল (শুক্রবার) বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভারতের পক্ষে সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
বৈঠকে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটভুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই প্রকল্পের কাজ আরও এগিয়ে নিতে তহবিলের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর ২৬ মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বনির্ধারিত তারিখটিই চূড়ান্ত হয়েছে। বৈঠকে চূড়ান্ত হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফরকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে পাঁচ থেকে ছয়টি নতুন সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধে যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন বিষয়ে একাধিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. সি আর আবরার রেডিও তেহরানকে বলে, দুদেশের সরকারের পর্যায়ে এমন নিবিড় সম্পর্ক থাকলেও জনগণের পর্যায়ে তা বিপরীত। সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া, সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করা, বছরের পর বছর ধরে যৌথ নদীর পানি আটকে দেওয়া এবং ভারতের সকল চাহিদা মিটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের দাবি অমীমাংসিত রাখার নীতি আর যাই হোক সেটা কোনোভাবেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি দিল্লিকে অনুরোধ করেন- তারা যেন বাংলাদেশের প্রতি তাদের আধিপত্যমূলক বা বিদ্বেষপুর্ণ কৌশলের বদলে আন্তরিকতা নিয়ে সমমার্যাদার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখে, এটা উভয় প্রতিবেশীর জন্য মঙ্গলজনক।
ওদিকে, এবছর দিল্লির রাজপথে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে পুরোভাগে ছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
বাংলাদেশের ১২২ জনের একটি কনটিজেন্ট ভারতে ২৬ জানুয়ারির সেই প্যারেডে অংশ নেয়, 'শোনো একটি মুজিবরের থেকে' গানের তালে তালে অর্কেস্ট্রাও বাজিয়ে শোনায় সে দেশের সামরিক ব্যান্ড। কুচকাওয়াজের সময় রাজপথের আকাশে ফ্লাই পাস্ট করে যায় একটি ভিন্টেজ 'ডাকোটা' বিমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে এয়ারক্র্যাফটের সম্পর্ক ছিল নিবিড়।
ভারতের সেনাবাহিনীর সূত্রে বলা হচ্ছে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সমগ্র ভারত এবছর যে 'স্বর্ণিম বিজয় জয়ন্তী' উদযাপন করছে, সেই উপলক্ষেই এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশকে এই বিশেষ সম্মান অর্পণ করা হল।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।