বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ৭ দিনের রিমান্ডে
-
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এম আসলাম চৌধুরী
ইহুদিবাদী ইসরাইলির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এম আসলাম চৌধুরী ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আসাদুজ্জামান মিয়াকে ৫৪ ধারায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ (সোমবার) বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম শারাফুজ্জামান আনসারী এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় খিলক্ষেত থানা এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরী, তাঁর ব্যক্তিগত সহকামী মো. আসাদুজ্জামান মিয়া ও গাড়িচালক আল আমিনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে তাদেরকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোমবার বেলা তিনটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রব্বানী তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, “আসামি আসলাম চৌধুরী গত ৫ থেকে ৯ মার্চ বাংলাদেশের সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কাজে ভারতে যান। ভারতে থাকার সময় বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কবহির্ভূত রাষ্ট্র ইসরাইলির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আসামি বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করেন। এই নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাতের জন্য সন্ত্রাস, নাশকতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা দেশের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং এর জন্য সহযোগিতা চান।”
এতে বলা হয়েছে, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শ নিয়ে তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনে বিশ্বাসী হয়ে ভবিষ্যৎ সুবিধা লাভের আশায় নাশকতামূলক অপরাধ, রাষ্ট্র, সরকার, সার্বভৌমত্ব ধ্বংস এবং সরকার উৎখাতের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই আসামিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে রমনা, ভাটারা, গুলশান, খিলক্ষেত ও বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
গত ৯ মে নয়াদিল্লিতে ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বৈঠক সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’- এ প্রকাশিত হয়। সেই সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও মেন্দির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠক সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই বিএনপিকে উদ্দেশ করে সরকারি দলের নেতারা কয়েক দিন ধরে অভিযোগ করছেন, আসলাম চৌধুরী ইসরাইলির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, ইসরাইলির সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রশ্নই উঠতে পারে না।
তবে, গ্রেফতার হওয়ার আগে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী নিজেও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরে গ্রুপ ছবি তোলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি জানতেন না যে, মেন্দি এন সাফারি ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতা। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জানতে পারেন তার সঙ্গে মোসাদের সম্পর্ক রয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবির বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ছবি কিভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হল তা বুঝতে পারছি না। তবে এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে সেজন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতেও দ্বিধা নেই তার।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬