তেলআবিবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ইসরাইলি নেতাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে পাশ্চাত্যকে
রাফায় ইসরাইলি পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়
-
গাজার রাফাহতে তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ
রাফাহ শহরে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা অঞ্চলে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।
প্রতিবাদীরা গাজায় যুদ্ধ অবসানের ও ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুল, জর্দানের রাজধানী আম্মান, ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার, ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ও জার্মানির রাজধানী বার্লিনসহ বিশ্বের বহু শহরে হয়েছে এইসব বিক্ষোভ।
ইহুদিবাদী ইসরাইল রোববার রাতে রাফাহ'র পশ্চিম উত্তরাংশে শরণার্থীদের নানা কেন্দ্রে ও তাঁবুগুলোতে নির্বিচার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে কমপক্ষে ৫০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হন।
গাজায় ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের প্রতিবাদে আবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে তুরস্কে। তুরস্কে ইসরাইলি কনস্যুলেটে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষোভকারী প্রতিবাদীরা। মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে এবং শহরের অন্য আরেকটি এলাকায়ও প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। প্রতিবাদীরা একটানা আট মাস ধরে চলমান বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব-সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের হাতে থাকা কয়েকটি ব্যানারে লেখা ছিল ফিলিস্তিনকে মুক্ত কর। ইসরাইল ও তার সহযোগী আমেরিকা ধ্বংস হোক বলে তারা শ্লোগান দেয়।
সম্প্রতি গাজার সবচেয়ে দক্ষিণে রাফাহ শহরে নারী ও শিশুদের ওপর যে পৈশাচিক গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল তাতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদ মিছিল ও নিন্দার ঝড় আবারও জোরদার হচ্ছে।
রাফাহয় ইসরাইলি গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে আলজেরিয়া। পাকিস্তান রাফাহয় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর ইসরাইলি হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননা বলে উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেছেন, গাজা উপত্যকায় যে ভয়াবহ আগ্রাসন চলছে এবং দানবীয় আতঙ্ক বিরাজ করছে তার অবশ্যই অবসান হতে হবে।
এদিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জার্মান নাৎসি সরকারের সঙ্গে তুলনা করেছেন লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, গাজায় ইসরাইলি পাশবিকতার বিরুদ্ধে যেভাবে গোটা বিশ্ব ফুঁসে উঠছে তাতে এই নাৎসি সরকারের টিকে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ গতরাতে (মঙ্গলবার রাতে) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেন, “আমি এ অঞ্চলে নাৎসি সরকারের কোনো ভবিষ্যৎ দেখি না।” তিনি বলেন, গত রোববার গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে ইসরাইলি সেনারা যে নির্দয় বোমাবর্ষণ করেছে তা কেবল এই সরকারের পতন ও ধ্বংস ত্বরান্বিত করবে।
লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, ওই হামলা প্রমাণ করেছে, ইসরাইলিরা ইউরোপজুড়ে পাশবিকতা পরিচালনাকারী নাৎসিদের চেয়েও জঘন্য। তিনি সরাসরি বলেন, “এই দখলদার সরকারের বিবেকবুদ্ধি কিংবা নীতি-নৈতিকতার বালাই নেই এবং এটি নাৎসিদের চেয়েও খারাপ।”
গত রোববার রাতে গাজার রাফাহ শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি তাঁবুতে ইসরাইলি সেনাদের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন জীবন্ত পুড়ে মারা যায় যাদের বেশিরভাগ ছিল নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত বা আইসিজে তেল আবিবকে রাফাহ শহরে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়ার পর ওই পাশবিকতা চালায় দখলদার সেনারা।
সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন, আন্তর্জাতিক সমাজ গাজায় হামলা বন্ধ করার যে আহ্বান জানাচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল রাফাহ শহরের তাঁবুতে হামলা চালিয়ে তার জবাব দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাফাহতে চালানো হামলায় নিহত শিশুদের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, আর এ ঘটনা প্রমাণ করে ইসরাইল কতটা অসভ্য, বর্বর ও নির্মম।
ইসরাইলি বর্বরতা ও পৈশাচিকতার ব্যাপারে মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা সরকারগুলো এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় জোটের মৃদু সমালোচনা বা তিরস্কার যে লোক-দেখানো ভণ্ডামি তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। ইউরোপের কয়েকটি সরকার স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবির প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করলেও তা বর্ণবাদী ইসরাইলকে শায়েস্তা বা একঘরে করার জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়, বরং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ইসরাইলি নেতাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে যেমনটি দাবি উঠেছ তুরস্কের প্রতিবাদী জনগণসহ বিশ্বের গণ-বিক্ষোভগুলোতে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।