সোলেইমানি বেঁচে থাকলে, আমরা এতটা সফল হতাম না: ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলেইমানির সামরিক শক্তি-সামর্থ্য ওয়াশিংটনের 'কৌশলগত অপশনগুলো' সীমিত করে রেখেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিরোধ কমান্ডারকে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল।
শুক্রবার দক্ষিণ বুলভার্ডের একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে ট্রাম্প বলেন, “সরাসরি বলছি, তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী জেনারেল। হয়তো তিনি থাকলে আমরা ইরানে এতটা সফল হতাম না।”
জেনারেল কাসেম সোলেইমানি এবং ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস (PMU)-এর দ্বিতীয় কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও তাদের সঙ্গীরা ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় শহীদ হন। এই হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ট্রাম্পের মতে, জেনারেল সোলেইমানির অনুপস্থিতি পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাগুলোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই প্রভাব ইরাক, সিরিয়া, লেবানন এবং গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি শীর্ষ এই প্রতিরোধ কমান্ডারের হত্যাকাণ্ড একটি 'টার্নিং পয়েন্ট' চিহ্নিত করেছে।
শহীদ হওয়ার পরবর্তী বছরগুলোতে তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশ ও আল-কায়েদার শাখাগুলোকে পশ্চিমাবিশ্ব এবং ইসরায়েলের স্বার্থে শক্তিশালী করা হয়।
২০২৪ সালের শেষের দিকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হায়াত তাহরীর আল-শাম (এইচটিএস) পশ্চিমা মদদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদের সরকার উৎখাত করতে সক্ষম হয়। এতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কিছু শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আসাদের পতনের ষড়যন্ত্র করছিল।
জেনারেল সোলেইমানি সবসময় বলতেন, সিরিয়া হলো 'প্রতিরোধের ফ্রন্টলাইন', যেখানে এমন শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা হয় যা অঞ্চল শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তার মতে, সিরিয়ার পতন কেবল দেশটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং পুরো পশ্চিম এশিয়ায় বিশাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সামরিক, গোয়েন্দা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে গাজা এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরাইলি হুমকির মোকাবেলায়। এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে- উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি, আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সমর্থন, যা ইসরায়েলকে ঝুঁকিমুক্ত রেখেছে। লেবাননে, মার্কিন নেতৃত্বে কূটনৈতিক চাপ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য একটি রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করতে বৈরুতের উপর তীব্র হয়েছে, এটি একমাত্র গ্রুপ যা বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে, 'সোলেইমানি ছিলেন একজন শক্তিশালী জেনারেল' ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি একটি স্বীকারোক্তি নিহিত: সোলেইমানি যদি এখনও বেঁচে থাকতেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে এই ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম হতো না।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৭