ইরানে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ‘পুরোপুরি মিথ্যা’: অ্যাটর্নি জেনারেল
-
সাম্প্রতিক দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিন্দা জানান ইরানি বিক্ষোভকারীরা
ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ ইরানে আট শতাধিক ব্যক্তির কথিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানের বিচার বিভাগ বিদেশি কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করে না এবং এটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।
গতকাল (শুক্রবার) মোভাহেদি আজাদ বলেন, ১২ জানুয়ারি সারা দেশে আয়োজিত সমাবেশে ইরানি জনগণের দ্রুত ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ করার পরই ট্রাম্প এ ধরনের দাবি করেছেন।
গত শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানে কথিত ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ঠেকিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মোভাহেদি আজাদ বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি; এমন কোনো সংখ্যাই নেই এবং বিচার বিভাগ এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বিচার বিভাগ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যা বাইরের কোনো চাপের কাছে মাথা নত করে না।” তিনি যোগ করেন, "ইরানে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বিভাজন রয়েছে এবং দেশটি বিদেশি কোনো শক্তির নির্দেশে পরিচালিত হয় না।”
ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিরও কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের ভাষা ব্যবহার কার্যত “পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণার” শামিল। মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে বলেন, যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। কারণ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সমর্থকেরা সর্বত্র বিরাজমান।
তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে এই অঞ্চলে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের 'অহংকারী শাসনব্যবস্থা' ও 'শিশুহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা'-সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি ও স্বার্থগুলোকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সমর্থকের সংখ্যা বিপুল, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও আছে।
এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন বিদেশি মদদে সৃষ্ট অস্থিরতার পর ইরানে উত্তেজনা বেড়েছে।
গত মাসের শেষ দিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট ও তীব্রতর হওয়া অর্থনৈতিক সংকট তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্ম দেয়। কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের দাবিকে বৈধ বলে স্বীকার করলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের প্রকাশ্য উসকানিতে দাঙ্গাকারীরা আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেয়।
কর্মকর্তারা জানান, কিছু ভাড়াটে দাঙ্গাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে অস্ত্রপ্রাপ্ত, প্রশিক্ষিত ও নিয়োগপ্রাপ্ত ছিল—যাদের উদ্দেশ্য ছিল সহিংসতা উসকে দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা এবং সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের শহীদ ফাউন্ডেশন জানায়, দাঙ্গার ঘটনায় মোট ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৪২৭ জন ছিলেন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। নিহতদের অনেকেই পথচারী ও বিক্ষোভকারী ছিলেন, যাদের সংগঠিত সন্ত্রাসী উপাদান গুলি করে হত্যা করেছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৪