ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা:
'ইরান-মার্কিন অভূতপূর্ব চুক্তির ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে; তেহরান যেকোনো মূল্যে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে'
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
পার্স-টুডে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি 'ঐতিহাসিক সুযোগ' এসেছে, যা একটি অভূতপূর্ব চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র যেকোনো মূল্যে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক মঙ্গলবার এক্সে (X) একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী তৃতীয় পর্বের পরোক্ষ পরমাণু আলোচনার জন্য জেনেভাতে শুরু হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, এমন একটি চুক্তি "পারস্পরিক উদ্বেগ" দূর করতে এবং "পারস্পরিক স্বার্থ" অর্জন করতে সক্ষম হবে।
তবে চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এমন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে যেখানে কূটনীতি "প্রাধান্য" পাবে। আরাকচি পরামর্শ দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেন আগ্রাসনের মাধ্যমে আলোচনা প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত না করে, যেমনটি গত জুনে দুই দেশের মধ্যে আগের ধারাবাহিক আলোচনার সময় হয়েছিল।
ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে, তিনি বলেন যে, "একটি ন্যায্য এবং সমতা ভিত্তিক চুক্তি অর্জনের জন্য আমাদের দৃঢ় সংকল্প রয়েছে—সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে।"
তিনি একই সঙ্গে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি কর্মসূচি সম্পর্কিত মূল নীতিগুলি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমাদের মৌলিক বিশ্বাস খুবই স্পষ্ট: ইরান কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না; আমরা ইরানিরা কখনও শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের জনগণের জন্য সুবিধা অর্জনের অধিকারও ত্যাগ করব না "।
এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, আলোচনার প্রতি আগ্রহের কারণে ইরান দেশের সার্বভৌমত্বের সাথে কোনো আপস করবে না। তিনি বলেছেন, "আমরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রমাণ করেছি যে, আমরা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিছুতেই পিছপা হব না। আমরা সেই একই সাহস নিয়ে আলোচনায় বসি, যেখানে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান অনুসরণ করব।
এই মন্তব্যগুলো সেই সময় এসেছে, যখন পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে, বিশেষ করে ইরানের চারপাশে, আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরাকচির মন্তব্যগুলো অন্যান্য উচ্চ পদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের মতামতকেও প্রতিধ্বনিত করেছে, যারা ওয়াশিংটন এবং তার মিত্রদের সতর্ক করেছেন যে, তারা যেন ইরানকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখার মাধ্যমে নতুন, অবাঞ্ছিত এবং অবৈধ আগ্রাসন না চালায়। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশ্কিয়ান বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে, এবং একইভাবে তিনি সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।