যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই: বললেন ‘ইরান এখন আর আগের মতো হুমকি নয়’
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ‘সব লক্ষ্য পূরণ’ করবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।-
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তিনি এর আগে দাবি করেছিলেন—ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে। তবে তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তি না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সমন্বিত আঘাত হানা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের তেল খাতে হামলা চালায়নি, যদিও সেটিই ‘সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য’।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এ পথ দিয়ে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং অন্যান্য দেশগুলোকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, সংঘাত শেষ হলে প্রণালী ‘স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে’ এবং তেলের প্রবাহ পুনরায় শুরু হবে, যা বৈশ্বিক বাজারকে স্থিতিশীল করবে।
ভাষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি বলেন, “শাসন পরিবর্তন আমাদের লক্ষ্য ছিল না,” তবে ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটেছে বলে দাবি করেন এবং নতুন নেতৃত্বকে “কম চরমপন্থী” হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান এখন আর আগের মতো হুমকি নয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বেশির ভাগ নেতারা মারা গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।
ট্রাম্প এরপরে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁরা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত না।
ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি সোলাইমানিকে ‘রাস্তার ধারে পেঁতে রাখা বোমার হোতা’ বলে উল্লেখ করেন। সোলাইমানি এখনো বেঁচে থাকলে আজ রাতে আলোচনা অন্যরকম হতো বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তবে তবুও আমার জিততাম, বড় জয় পেতাম।’
যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ইরান যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যুদ্ধ ‘সফল বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তাদের পরমাণু আতঙ্কে নেই। যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।#
পার্সটুডে/এমএআর/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।