ট্রাম্পের ভাষণ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া: মার্কিন রাজনীতি ও বিশ্বমঞ্চে বাড়ছে বিভক্তি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i158192-ট্রাম্পের_ভাষণ_ঘিরে_তীব্র_প্রতিক্রিয়া_মার্কিন_রাজনীতি_ও_বিশ্বমঞ্চে_বাড়ছে_বিভক্তি
জাতির উদ্দেশে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক ভাষণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভাষণে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ ‘খুব কাছাকাছি’ বলে দাবি করেন এবং আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তবে তার এই অবস্থানকে ঘিরে ডেমোক্র্যাট শিবির ও সমালোচকদের পক্ষ থেকে কড়া বিরোধিতা দেখা গেছে।
(last modified 2026-04-09T15:13:27+00:00 )
এপ্রিল ০২, ২০২৬ ০৬:৪৮ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ভাষণে ঝড়, যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
    ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ভাষণে ঝড়, যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

জাতির উদ্দেশে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক ভাষণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভাষণে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ ‘খুব কাছাকাছি’ বলে দাবি করেন এবং আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তবে তার এই অবস্থানকে ঘিরে ডেমোক্র্যাট শিবির ও সমালোচকদের পক্ষ থেকে কড়া বিরোধিতা দেখা গেছে।

মার্কিন সিনেটর ক্রিস কোনস ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অস্পষ্ট ও এলোমেলো’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে কোনো সুসংহত পরিকল্পনার ইঙ্গিত নেই। সাংবাদিক জন হারউড ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ দাবি করে বলেন, তার বক্তব্য বিশ্বব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেন, আমেরিকার জনগণ ‘বিশৃঙ্খলা ও উচ্চ ব্যয়ে ক্লান্ত’ এবং ট্রাম্পকে অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যের ‘বেপরোয়া যুদ্ধ’ বন্ধ করতে হবে।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক স্কুমার আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ট্রাম্পের ইরান নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুলগুলোর একটি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তার অভিযোগ, ট্রাম্প মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো উপেক্ষা করছেন।

অন্যদিকে সিনেটর ক্রিস ভান হোলেন ট্রাম্পের ‘যুদ্ধে জয়ের’ দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র জিতে থাকে, তাহলে এখনো সংঘাত কেন চলছে?

“ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে” ট্রাম্পের এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে সিনেটর ক্রিস মুরফি বলেন, ইরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সক্রিয় রয়েছে।

সমালোচনায় যোগ দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সারাহ লংওয়েল, যিনি ট্রাম্পের ভাষণকে ‘পাগলামি’ বলে বর্ণনা করেন এবং এটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে সিনেটর বের্নি স্যান্ডার্স সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং কূটনৈতিক পথই হওয়া উচিত প্রধান বিকল্প।

সাবেক কংগ্রেসওম্যান তুলসি গ্যাবার্ড ট্রাম্পের নীতিকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে কৌশলগত স্পষ্টতার অভাব রয়েছে, যা মিত্রদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

বিবিসি নিউজ এবং সিএনএন-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভাষণে শক্ত অবস্থানের বার্তা থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানের কোনো নতুন দিকনির্দেশনা নেই।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা জোরালো করেছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২