'এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তিক্ত অনুশোচনা করতে হবে'
প্রতিরক্ষাহীন রণতরী ‘দেনা’ ডেস্ট্রয়ারে হামলার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব: ইরান
-
দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদ নাবিকদের জিনিসপত্রের প্রদর্শনী দেখছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি (বাম দিক থেকে দ্বিতীয়)
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা (IRIS Dena)-তে যুক্তরাষ্ট্রের টর্পেডো হামলার ঘটনায় তেহরান সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পথে পদক্ষেপ নেবে।
‘দেনা’র শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রীর একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে আরাকচি এই হামলাকে একটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, হামলার সময় জাহাজটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে ছিল, নিরস্ত্র অবস্থায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করছিল। ঠিক সেই সময় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে এতে হামলা চালানো হয়।
আরাকচি বলেন, “যা ঘটেছে তা নিঃসন্দেহে একটি যুদ্ধাপরাধ, যা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে। এটি কোনো নৌবাহিনীর বিজয় নয়; বরং শত্রুর দুর্বলতারই প্রমাণ।”
তিনি আরও বলেন, ১০৪ জন নাবিকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই হামলা ছিল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে থাকা একটি প্রতিরক্ষাহীন লক্ষ্যবস্তুর ওপর কাপুরুষোচিত আঘাত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন বিভাগ নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা-সংক্রান্ত সব নথি ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
তিনি বলেন, “এই শহীদদের পবিত্র রক্ত আমরা কখনো ভুলব না এবং এর বিচার চাওয়া থেকেও সরে আসব না।”
আরাকচি বলেছেন, ‘দেনা’র নাবিকদের আত্মত্যাগ, মিনাবের শিশুদেরসহ অন্যান্য শহীদদের আত্মোৎসর্গের সঙ্গে মিলিত হয়ে যুদ্ধে ইরানের বিজয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, “আমি কখনোই বিশ্বাস করি না যে, এই প্রিয় মানুষগুলোর রক্ত বৃথা গেছে। বরং তাদের রক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী বৃক্ষকে সেচ দিয়েছে এবং আমাদের এমন শত্রুদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পথ তৈরি করেছে, যারা সর্বশক্তি নিয়ে যুদ্ধে নেমেও তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।”
উল্লেখ্য ‘দেনা’ ডেস্ট্রয়ারে হামলার সঙ্গে জড়িত মার্কিন কর্মকর্তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে জাতিসংঘের প্রতি এরিমধ্যে আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
গত ৪ মার্চ ভারতের আয়োজিত বহুজাতিক নৌ-মহড়া মিলান ২০২৬ (MILAN 2026)-এ অংশগ্রহণ শেষে নিজ দেশে ফেরার পথে ‘দেনা’র ওপর এই হামলা চালানো হয়।
সে সময় ফ্রিগেটটি শ্রীলঙ্কার গলে উপকূল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। তখন মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস শার্লট (USS Charlotte) নামের লস অ্যাঞ্জেলেস-শ্রেণির সাবমেরিন থেকে ছোড়া একটি মার্ক ৪৮ (Mark 48) টর্পেডো জাহাজটিতে আঘাত হানে।
হামলার সময় জাহাজটি নিরস্ত্র ছিল এবং এতে ১৩৬ জন নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০৪ জন শহীদ হন এবং ৩২ জন আহত হন।
এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে “তিক্ত অনুশোচনা” করতে হবে।
তেহরান এই জাহাজডুবির ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/০১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।