এ পর্যন্ত ৩ নারী ও এক শিশুসহ ৪৩ জন নিহত
অবিলম্বে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধের ব্যবস্থা নিন: জাতিসংঘকে ইরান
-
জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি
পার্সটুডে: ইরান জাতিসংঘকে সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি হরমোজগান প্রদেশজুড়ে সেতু, রেলস্টেশন এবং আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, এসব হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
ইরাভানি জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাত ও শুক্রবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বন্দর আব্বাস–লার এবং কাহুরেস্তান–বন্দর খামির সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়ে যায়। একটি সেতুতে হামলার পর একটি বেসামরিক যান ক্ষতিগ্রস্ত সেতু থেকে নিচে পড়ে যায়। এতে ৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হন। তিনি আরও বলেন, বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় ইচ্ছাকৃত হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক উত্তর–দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (International North–South Transport Corridor) একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বন্দর আব্বাস রেলস্টেশনেও সরাসরি সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্টেশনের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন রেলকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ওই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
ইরাভানি লিখেছেন, এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৪৩ জন নিহতের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জন নারী এবং ৯ জন অল্পবয়সী শিশু রয়েছে। বর্তমানে ৪৭ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিঠিতে উদ্ধৃত ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ৪০০ জন ছাড়িয়ে গেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বেসামরিক সম্পত্তি ও অবকাঠামো, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও রেল নেটওয়ার্ককে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রাণহানি, আহত হওয়া, অবকাঠামো ধ্বংস, পরিবেশগত ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ এইসব কর্মকাণ্ডের সব পরিণতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি আন্তর্জাতিক দায় বহন করবে।
ইরাভানি আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অব্যাহত অবৈধ সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ও আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সনদ অনুযায়ী তাদের প্রধান দায়িত্ব পালনের এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
চিঠির শেষাংশে তিনি বলেন, যদি জাতিসংঘ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান তার সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জনগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের স্বাভাবিক অধিকার সংরক্ষণ করে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।