'মুসলিম ভূখণ্ডগুলো পরস্পরের ওপর আগ্রাসনের ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া উচিত নয়'
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162570-'মুসলিম_ভূখণ্ডগুলো_পরস্পরের_ওপর_আগ্রাসনের_ঘাঁটিতে_পরিণত_হওয়া_উচিত_নয়'
পার্সটুডে: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন: কোনো মুসলিম ভূখণ্ডই অন্য কোনো মুসলিম দেশের ওপর আগ্রাসনের ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া উচিত নয় এবং কোনো মুসলিম দেশেরই প্রতিবেশী দেশের অনিরাপত্তার মধ্যে নিজের নিরাপত্তা খোঁজা উচিত নয়।
(last modified 2026-08-27T14:33:00+00:00 )
আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৭:২৮ Asia/Dhaka
  • তেহরানে ৪০তম বিশ্ব -ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
    তেহরানে ৪০তম বিশ্ব -ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

পার্সটুডে: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন: কোনো মুসলিম ভূখণ্ডই অন্য কোনো মুসলিম দেশের ওপর আগ্রাসনের ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া উচিত নয় এবং কোনো মুসলিম দেশেরই প্রতিবেশী দেশের অনিরাপত্তার মধ্যে নিজের নিরাপত্তা খোঁজা উচিত নয়।

ইসলামী ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আজ বৃহস্পতিবার সকালে তেহরানে (মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত সম্মেলন-কেন্দ্রের হল-ভবনে) ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের অধিকার প্রসঙ্গে বলেছেন:

ইরানকে রক্ষা করার অর্থ মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করা নয়। কোনো মুসলিম বা ইসলামী ভূখণ্ডই অন্য কোনো মুসলিম বা ইসলামী দেশের ওপর আগ্রাসনের ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া উচিত নয় এবং কোনো মুসলিম বা ইসলামী দেশেরই প্রতিবেশী দেশের অনিরাপত্তার মধ্যে নিজের নিরাপত্তা খোঁজা উচিত নয়। তিনি আরও বলেছেন: ইরান এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিবেশীদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে—দুর্বলতার অবস্থান থেকে নয়, বরং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন: আজকের মুসলিম বিশ্বের নতুন কোনো প্রস্তাবের চেয়ে কয়েকটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য অঙ্গীকার বেশি জরুরি। এর একটি হলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অনাক্রমণ চুক্তি। মুসলিম দেশগুলোকে একে-অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকার করতে হবে এবং অন্য কোনো মুসলিম দেশের ওপর আগ্রাসনের জন্য নিজেদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

পেজেশকিয়ান আরও বলেছেন: ঐক্য শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়। এমন ব্যবস্থা নেয়া উচিত যাতে একজন মুসলিম তরুণ অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও সহজে পড়াশোনা করতে পারে। মুসলিম দেশগুলোর পুঁজি আরও বেশি করে মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও প্রযুক্তির দিকে পরিচালিত হওয়া উচিত। মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য—যা বর্তমানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মোট রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশেরও কম—আরও ব্যাপক মাত্রায় ও জোরালোভাবে বাড়াতে হবে।

রমজান যুদ্ধ একতরফা আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐতিহাসিক মোড়: মাজহাবগুলোর ঐক্য বা নৈকট্য বিষয়ক পরিষদের মহাসচিব:

তাকারিবে মাজাহেব বা ইসলামী মাজহাবসমূহের বিশ্ব সংহতি পরিষদের মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন হামিদ শাহরিয়ারি (সর্ববামে)

 

এদিকে, আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকারিবে মাজাহেব বা ইসলামী মাজহাবসমূহের বিশ্ব সংহতি পরিষদের মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন হামিদ শাহরিয়ারি বর্তমান সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংঘাতকে সভ্যতাগুলোর যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে বলেন: মুসলিম দেশগুলো উপলব্ধি করেছে যে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কেবল সেখানকার জনগণের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

ওই পরিষদের মহাসচিব ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার কারণগুলো তুলে ধরে বলেছেন: তারা চায় না ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, উন্নত অবকাঠামো, তেল, বিজ্ঞানী, সাহসী সৈন্য, শক্তিশালী সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং এমনকি শক্তিশালী নেতৃত্বও থাকুক। কারণ এসবের প্রতিটি উপাদান জাতীয় সংহতি ও ইসলামী উম্মাহর প্রতিরোধকে শক্তিশালী করে। এসব যুক্তির মূলে রয়েছে মুনাফাকেন্দ্রিক নীতি ও পুঁজিবাদী রাজনীতি; কিন্তু এই নীতি ও রাজনীতিই আজ পশ্চিমকে পতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

লেবাননের সংসদ স্পিকারের প্রতিনিধি হাসান আবদুল্লাহ নাফতি, যিনি সুর ও জাবাল আমেল থেকে এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইসলামী উম্মাহর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্য এখন বেশি জরুরি প্রয়োজন। মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকি হলো বিভেদ সৃষ্টি করা। আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান বাহ্যিক বিভাজনের দেয়ালগুলো ভেঙে ফেলতে হবে, ধর্মীয় সংলাপকে বিস্তৃত হতে দিতে হবে এবং রাজনীতিকে নৈতিকতাভিত্তিক করতে হবে।

বৈরুতের জুমার নামাজের ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আলী ফাদলুল্লাহও তাঁর বক্তব্যে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন যে ঐক্যের অর্থ সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া। তিনি বলেছেন: বাস্তব ঐক্য মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সুদৃঢ় করতে পারে এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুণ্ঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরানের শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর (র) ঐক্য সম্পর্কিত ধারণাগুলো মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন বাজার গঠন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন