'মার্কিন ঘাঁটিগুলো এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি'
শহীদ বিপ্লবী নেতার রক্তের বদলা নেয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে: আরাকচি
-
ইসলামী ঐক্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে: আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনের অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন: ৭০ বছর ধরে নিঃস্বার্থ সংগ্রামের পর বিপ্লবের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাতের যোগ্য ছিলেন; কিন্তু আমরা ক্ষমা করব না, ভুলবও না এবং তাঁর রক্তের বদলা নেওয়ার আন্দোলন অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনের অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেন, ৭০ বছর ধরে নিঃস্বার্থ সংগ্রামের পর সর্বোচ্চ বিপ্লবী নেতার যে শাহাদাত ঘটেছে তা তাঁর রক্তের বদলা নেয়ার ও প্রতিরোধের এক নতুন আন্দোলনের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, যেভাবে ১,৪০০ বছরেরও বেশি সময় পরও সাইয়্যেদুশ শোহাদা হযরত ইমাম হুসাইনের (আ.) রক্তের বদলা নেয়ার আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, তেমনি ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর (র) রক্তের বদলা নেওয়ার আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে। ইরানি জনগণ স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও নিজেদের মর্যাদা অটুট রাখার ওপর নির্ভর করে যেকোনো আগ্রাসন, শত্রুদের অন্যায় দাবি ও চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে যাবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো—অঞ্চলের দেশগুলো উপলব্ধি করেছে যে তাদের ভূখণ্ডে-থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তারা আরও বুঝতে পেরেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত তাদের প্রতিরক্ষার চেয়ে ইসরায়েলি দখলদার সরকারকে মদদ দিতেই বেশি আগ্রহী।
আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি দখলদার-সরকার যা করেছে, তা ছিল একটি অবৈধ আগ্রাসন; আর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যা করেছে, তা ছিল বৈধ আত্মরক্ষা। ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো উপলব্ধি করেছে যে তারা তাদের নিরাপত্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে রাখতে পারে না। এ কারণেই আজ আমরা তাদের নিজেদের মধ্যে জোট ও সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা দেখতে পাচ্ছি। এটি প্রমাণ করে যে তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে আশা ও আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্পর্কে আরাকচি বলেছেন, অর্থনৈতিক চাপ দেশের জন্য ব্যয়বহুল; কিন্তু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই চাপের কারণে নিজেকে বিক্রি করবে না। যেভাবে ওবামার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ করেছি, নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও আমরা প্রতিরোধ করব। আমরা ওবামা ও ট্রাম্পকে দেখেছি এবং তাদের সবার মধ্যেই আধিপত্যবাদী চরিত্র ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা প্রত্যক্ষ করেছি।
মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইরানের নীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সব মুসলিম দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। এ লক্ষ্যেই আমরা মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছি।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন