'ইরানি স্কুল-শিশুদের ওপর মার্কিন গণহত্যায় ফ্রান্সের নিরবতা প্যারিসের ভণ্ডামির প্রমাণ'
কুম্ভিরাশ্রু বন্ধ করুন: মানবাধিকার প্রসঙ্গে ফ্রান্সের প্রতি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁর ফরাসি সমকক্ষ জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারোর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
একইসঙ্গে তিনি ইরানি স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্যারিসের নিরবতার সমালোচনা করেছেন।
এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে ব্যারোকে উদ্দেশ করে আরাকচি বলেন, “ফ্রান্স তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৫ লাখ আলজেরিয়ানকে হত্যা করেছিল। তাদের এক-দশমাংশেরও কম সংখ্যক মানুষকে প্যারিসের নথিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; অথচ তারা তাদের ঔপনিবেশিক অপরাধের জন্য কোনো ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানায়।”
তিনি আরও বলেন, “আপনার এই কুমিরি-মায়াকান্না বন্ধ করুন, @jnbarrot। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন আমাদের স্কুল-শিশুদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে, তখন আপনার নিরবতাই সবকিছু বলে দিয়েছে।”
আরাকচি ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারে তাইয়্যেবা স্কুলে চালানো বিমান হামলার কথা উল্লেখ করছিলেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের প্রথম দিনেই এই হামলা চালানো হয় এবং এটিকে যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই হামলায় ১২০ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষকসহ মোট ১৬৮ জন নিহত হন। আহত হন ১১০ জনেরও বেশি মানুষ।
তদন্তে দেখা গেছে, তিনটি নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটিতে আঘাত হানে। স্কুলটিতে পৃথক তিনটি হামলা চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সময় দেশটি যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমন বিশ্বাস করার মতো ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে। মিশনটি নির্বিচার হামলার কথা উল্লেখ করে, যেসব হামলায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে; এর মধ্যে শাজারে তাইয়্যেবা স্কুলে চালানো ভয়াবহ হামলাটিও রয়েছে।
তথ্য-অনুসন্ধানী দলটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দুটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে চিহ্নিত করেছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ /১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।