বিশ্লেষণ | ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বাজেট সংকট: একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের চড়া মূল্য
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i163280-বিশ্লেষণ_ইসরায়েলি_সেনাবাহিনীর_বাজেট_সংকট_একাধিক_ফ্রন্টে_যুদ্ধের_চড়া_মূল্য
পার্সটুডে- বহু ফ্রন্টে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে সেখানকার সরকারি সূত্রগুলো সতর্ক করেছে।
(last modified 2026-09-21T14:52:43+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২০:৫২ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলি সেনা
    ইসরায়েলি সেনা

পার্সটুডে- বহু ফ্রন্টে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে সেখানকার সরকারি সূত্রগুলো সতর্ক করেছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চলার কারণে সামরিক বাজেটে প্রায় ২৫ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৮.২ বিলিয়ন ডলার) ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জানিয়েছে, অতিরিক্ত কয়েক বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ না পেলে একই সঙ্গে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

সেনাবাহিনীর বাজেট বাড়ানোর চাপ ইতোমধ্যে সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির সতর্ক করে বলেন, একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এখন বাজেট নিয়েও লড়াই করছে।

এই সংকটকে শুধু প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে হিসাবের পার্থক্য হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ, গাজা যুদ্ধ, লেবাননে সংঘাত, পশ্চিম তীরে অভিযান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইয়েমেনসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক কার্যক্রম—সব মিলিয়ে সেনাবাহিনীর ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অর্থ হলো নিয়মিত গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, রিজার্ভ সেনাদের ব্যয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের অতিরিক্ত খরচ। ফলে যুদ্ধ চলতে থাকলে বাড়তি বাজেটও দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

২০২৬ সালের সামরিক বাজেট রেকর্ড ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার) হলেও সেনাবাহিনী আরও অর্থ চাইছে। একপর্যায়ে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন শেকেল চেয়েছিল। পরে জুলাই ২০২৬-এ সেনাবাহিনীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও ১৫ বিলিয়ন শেকেল দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়।

অস্ত্রশিল্পও সতর্ক করেছে যে, সরকারি অর্ডার ও অর্থায়নে বিলম্ব হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ উৎপাদন লাইন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে রিজার্ভ সেনাদের দায়িত্বের মেয়াদ কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত কিছু সামরিক সরঞ্জামের মেরামত স্থগিত করার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

এখানেই একটি বড় দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধের শক্তি ধরে রাখতে ইসরায়েলকে সামরিক ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু এই বাড়তি ব্যয় একই সঙ্গে সরকারি বাজেট, ঘাটতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর অর্থনৈতিক সক্ষমতাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেনাবাহিনী বলছে, অর্থ বরাদ্দ কমানো বা বিলম্বিত হলে তাদের সামরিক প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ ক্রমাগত বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এই পরিস্থিতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি করছে। নতুন অস্ত্র কেনা, পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত, রিজার্ভ সেনাদের ব্যয় এবং গোলাবারুদ ও ইন্টারসেপ্টর সংগ্রহ—সবকিছুর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে। নতুন বিমান ও হেলিকপ্টার কেনায় সম্ভাব্য বিলম্ব এবং গোলাবারুদ উৎপাদন নিয়ে সতর্কতাও এই চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অর্থাৎ, একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুধু সামরিক ব্যয়ই বাড়াচ্ছে না; এটি ইসরায়েলের অর্থনীতি, সরকারি বাজেট ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপরও ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে এবং যত বেশি ফ্রন্টে একসঙ্গে অভিযান চলবে, সামরিক প্রয়োজন ও তা বহনের অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান তত বাড়তে থাকবে।#

পার্সটুডে/এসএ/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।