ট্রাম্প-নেতানিয়াহু আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: ইসরায়েলি বিশ্লেষক
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162788-ট্রাম্প_নেতানিয়াহু_আমেরিকা_ও_ইসরায়েলকে_সংকটের_দিকে_ঠেলে_দিচ্ছে_ইসরায়েলি_বিশ্লেষক
পার্সটুডে: ইসরায়েলি বিশ্লেষক রন অ্যাডেলিস্ট বলেছেন, “এটি দেখতে আকর্ষণীয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও, বর্তমানে তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”
(last modified 2026-09-05T12:19:46+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬ ১১:৫৮ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু
    ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

পার্সটুডে: ইসরায়েলি বিশ্লেষক রন অ্যাডেলিস্ট বলেছেন, “এটি দেখতে আকর্ষণীয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও, বর্তমানে তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”

তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে উভয় দেশই এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখান থেকে সহিংসতায় রূপ নেওয়া মাত্র “এক ধাপ দূরে”।

মারিভ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে অ্যাডেলিস্ট আরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ‘ইসরায়েল’-এর সম্পর্ক নানা ক্ষেত্রে এতটাই পরস্পর জড়িত যে, আকার ও পরিসরের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, কে কাকে প্রভাবিত করছে তা বোঝা কঠিন—যদিও উভয় পক্ষকেই নিজেদের কার্যকর স্বাধীনতা বজায় রাখতে হয়। বিশেষ করে, গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ বিজয়ী হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।”

ইহুদিবাদী তথা জায়নবাদী এই বিশ্লেষক আরও বলেছেন, “উপরিভাগে দেখলে পরিমাণগত পার্থক্যের কারণে এ দুটির মধ্যে কোনো তুলনা করা যায় না। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েল হলো আমেরিকার একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ, আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত, জাতীয় ও সামাজিক পর্যায়ে এমন একটি কর্মসূচি অনুসরণ করেন, যা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক নয়। প্রচলিত দাবি হলো, আমরা দুটি গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছি—একটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং অন্যটি মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র। কিন্তু তা সত্য নয়। এগুলো শর্তসাপেক্ষ গণতন্ত্র। শর্তটি হলো, গভীর মসীহবাদী, সাম্প্রদায়িক, অর্থনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী প্রবাহগুলো যেন একনায়কতান্ত্রিক নেতাদের এবং অন্ধভাবে তাদের অনুসরণকারী বিবেকহীন জনতার হাতে না পড়ে—আর ঠিক সেটিই উভয় দেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে।”

তিনি লিখেছেন, “বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র একটি উদীয়মান সাম্রাজ্যের মতো আচরণ করেছে, আর ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের’ পর ইসরায়েল অবরুদ্ধ একটি ‘রাষ্ট্র’ হিসেবে আচরণ করেছে, যার জন্য শত্রুভাবাপন্ন আরব জনগোষ্ঠীকে দমন করা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়েছিল। তাই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু এসে সত্যটি প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত আমরা একটি শর্তসাপেক্ষ গণতন্ত্রের সঙ্গেই পরিচিত ছিলাম। যা আমাদের, তা আমাদের; আর যা তোমাদের, সেটিও আমাদের। একই সময়ে, উভয় দেশেই এমনসব অনমনীয় পরিচয়গত সমস্যা সামনে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী শুধু ভিন্ন নয়, বরং একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত। উভয় দেশই একই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সাংবিধানিক সংকটে পড়েছে।”

অ্যাডেলিস্ট ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র পার্থক্যের কথা উল্লেখ করলেও যুক্তি দেন যে, তাদের ভিন্নতা সত্ত্বেও ক্ষমতা ও রাজনৈতিক টিকে থাকার প্রশ্নে উভয় নেতার দৃষ্টিভঙ্গিই অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

তিনি লিখেছেন, “ট্রাম্প ও বিবির (নেতানিয়াহু) চেয়ে একে অপরের থেকে ভিন্ন আর দুজন মানুষ নেই।” তিনি ট্রাম্পকে “শিশুসুলভ আত্মমুগ্ধ মহামান্যতাবোধে আক্রান্ত ব্যক্তি” এবং “রোগগ্রস্ত আত্মপ্রেমিক” হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি বাস্তবতার কিছু বিচ্ছিন্ন অংশ আঁকড়ে ধরেন এবং জনসমক্ষে উপস্থিতির জন্য তাঁর সহযোগীরা তাঁকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করলেও প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির দিকে চলে যান।

অ্যাডেলিস্ট নেতানিয়াহুকেও এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি সর্বাগ্রে নিজের রাজনৈতিক টিকে থাকার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, নিজের অবস্থান রক্ষার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু এখনও অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও সতর্ক হলেও অন্য সবকিছুকেই গৌণ হিসেবে বিবেচনা করেন।

অ্যাডেলিস্ট এ দুই নেতাকে ঘিরে গড়ে ওঠা সমান্তরাল গণমাধ্যম পরিবেশের দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজের উদাহরণ দিয়ে উভয় গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে “উন্মত্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব” প্রচার এবং নিজ নিজ নেতাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করার অভিযোগ তোলেন।

অ্যাডেলিস্টের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু এমন রাজনৈতিক “বুদবুদের” মধ্যে কাজ করেন, যেখানে তাদের বিশ্বদৃষ্টিকে চ্যালেঞ্জ করে এমন তথ্য ছেঁকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি লিখেছেন, “যখন কোনো খারাপ ঘটনা ঘটে, তখন তাদের দুজনের কাছেই সেটি কেবল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষতি।”

অ্যাডেলিস্টের মতে, দুই নেতার চারপাশে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন তাদের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি পরিচালনার ধরনকেও প্রভাবিত করেছে। তাঁর দৃষ্টিতে, যখন কোনো নেতা দেশের অভ্যন্তরে প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও তাদের মাধ্যমে একই ধরনের অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি অনুসরণ করার সম্ভাবনা থাকে।

তিনি এটিকে “প্রতিটি বহির্মুখী ফ্রন্টে পরাজয়ের একটি নিশ্চিত সূত্র” হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর যুক্তি, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সুরক্ষা থাকলে নেতারা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি না হয়েও সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা সহ্য করতে পারেন।

জায়নবাদী এই বিশ্লেষক ট্রাম্পের অধীনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং নেতানিয়াহুর অধীনে সিরিয়া, লেবানন, পশ্চিম তীর ও গাজার সংঘাতের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর যুক্তি, দেশে রাজনৈতিক সুরক্ষা বজায় থাকার কারণে উভয় নেতা এমন নীতি অনুসরণ করে যেতে পারেন, যা তাদের আরও বড় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সবশেষে তিনি উপসংহারে বলেন, এই দুই তথাকথিত নেতার শেষ পর্যন্ত পতনও একই ধরনের সংক্ষিপ্ত গতিপথ অনুসরণ করতে পারে এবং তাদের রাজনৈতিক ভাগ্যের মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্যগুলো “অত্যন্ত লক্ষণীয়”। #

 

পার্সটুডে/এমএআর/০৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।