শ্রোতাদের মতামত
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ড. মোমেনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু কথা
মহাশয়, ৬ ডিসেম্বর পার্সটুডেতে প্রকাশিত "ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রক্তের: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী" শীর্ষক পোস্টের প্রেক্ষিতে আমার এই পত্রের অবতারণা।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এতটা মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে যে, পৃথিবীর অনেক দেশ এই সম্পর্ককে ঈর্ষা করতে শুরু করেছে। আসলে দুই দেশের সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চেয়েও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কটা অনেক মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের যে রক্তের সম্পর্ক, তা আরো গভীরভাবে উদযাপন করতে চাই। আমি তো সেই দিনের আশায় আছি, যেদিন ভারতসহ প্রতিবেশী দেশে আনাগোনা করতে কোন ভিসা লাগবে না। তাদের সঙ্গে আমাদের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।”
বর্তমানে আঞ্চলিক আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগ চালু করার বিষয়টি উভয় দেশের সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এই যোগাযোগ শুরু হলে দু'দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে। এটি চালু হলে শুধুমাত্র ভারত নয়, আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর সঙ্গে ও বাংলাদেশের বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হয়। কিছু মানুষ আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগ নেতিবাচক ভাবে দেখার চেষ্টা করেন। তাদের যুক্তি, বাংলাদেশ তাহলে ভারতের করিডোর হয়ে যাবে। অবশ্য এই ধরনের যুক্তি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, বিশ্বায়নের যুগে এই ধরনের প্রচেষ্টা যদি সার্থক হয় তাহলে তা উভয় দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে। এই যোগাযোগের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য এবং ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রদান করা হলে উভয় দেশ যেমন লাভবান হবে, একইসঙ্গে দু'দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো নিবিড় হবে। যেমনটি ইউরোপে দেখা যায়, সেনজেন ভিসার আওতায় ইউরোপের অনেক দেশে প্রবেশ করা যায়।
বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য ভারতে আসেন যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়।
ভারত সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের বৃত্তি চালু করেছেন। এর মধ্যে মৈত্রী বৃত্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য বৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু চেয়ার বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে প্রায় এক কোটি পূর্ব পাকিস্তানের শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া এবং সামরিক সহায়তা প্রদানসহ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর যে ভূমিকা রেখেছিলেন তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল। তাছাড়া বাংলাদেশের স্বীকৃতি দেবার ক্ষেত্রে ভুটানের পরবর্তী রাষ্ট্র ভারত। পদ্মার পানি বন্টন চুক্তি, ছিটমহল সমস্যার সমাধান এবং বাণিজ্যিক ঘাটতি কমানোর জন্য পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা ভারত দিয়েছে। তবে তিস্তার পানি নিয়ে এখনো কিছুটা সমস্যা আছে ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বর্তমান অবস্থানের কারণে।
তবে সবচেয়ে যে বিষয়টি বর্তমানে সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে সেটি হল- সীমান্ত হত্যা। এটা খুবই দুঃখের বিষয় মাঝে মাঝেই সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটছে। যার ফলে ভারত সম্পর্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব জন্ম নিচ্ছে। বিষয়টি ভারত সরকারকে আরো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষেই একই মাতৃভূমি ব্যবচ্ছেদে সৃষ্ট। উভয় দেশের জনগণের মধ্যে রয়েছে নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক যাকে অস্বীকার করবার কোন সুযোগ নেই।
ধন্যবাদান্তে
বিধান চন্দ্র সান্যাল
ঢাকা কলোনী, বালুরঘাট
দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।