পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও স্পিকারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ   
https://parstoday.ir/bn/news/india-i102924-পশ্চিমবঙ্গের_রাজ্যপাল_ও_স্পিকারের_মধ্যে_পাল্টাপাল্টি_বাকযুদ্ধ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২২ ১৪:৩৯ Asia/Dhaka
  • বিমান ও ধনখড়
    বিমান ও ধনখড়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

আজ (মঙ্গলবার) সংবিধান প্রণেতা বিআর আম্বেদকরের ভাস্কর্যে মালা দিতে এসে বিধানসভা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় রাজ্য সরকার ও রাজ্য বিধানসভা সংক্রান্ত সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যপাল এসেছিলেন আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিতে। কিন্তু এখানে এসে তিনি মূর্তিতে মালা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধানসভা সংক্রান্ত অনেক সমালোচনামূলক কথাবার্তা বলে গিয়েছেন। এটা ‘অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ’ বলেই আমি মনে করি। বিধানসভা এমন একটা জায়গা, উনি ওনার এখতিয়ারে কাজ করবেন, আমি আমার এখতিয়ারে কাজ করব। যদি ওনার সংবাদ সম্মেলন করার দরকারই ছিল তাহলে উনি রাজভবনে ডেকে পাঠাতে পারতেন।’     

স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে টার্গেট করে আরও বলেন, ‘যে বিলের কথা উনি বলছেন, হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বিল, সেটা পাশ করা হয় নি। ‘গণপিটুনি বিল’ প্রসঙ্গে উনি বলছেন রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দিয়েছেন। কিন্তু ওই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। অন্যান্য বিল সম্পর্কেও কোনও তথ্য নেই আমাদের কাছে। বিধানসভা এমন একটা জায়গা, যেখানে সব তথ্য আসা দরকার। কোনও তথ্য না আসা সত্ত্বেও উনি কীভাবে এ সব কথা বললেন, আমি জানি না।’ 

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় আজ বলেন, ‘রাজ্যপাল হিসেবে আমি শঙ্কিত। এ রাজ্যে গণতন্ত্র নেই! এখানে আইনের শাসন নয়, শাসকের আইন চলছে। ভোটাররা ভয় পান।’ এরপর স্পিকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমি তথ্য চাইলে দেওয়া হয় না। একাধিক বিষয় নিয়ে রাজ্যপালকে তথ্য দেওয়ার কথা, কিন্তু আমি কিছুই পাই না। সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠালে তাঁরা উপেক্ষা করেন। আমলাতন্ত্র রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছে, যা কাম্য নয়।’    

 রাজ্যপাল বলেন, ‘বলা হচ্ছে আমি বিভিন্ন বিল আটকে রেখেছি। কিন্তু আমি স্পষ্ট জানাতে চাই, আমার কাছে কোনও বিল আটকে নেই। আমার কাছে কোনও বিল পাঠানো হলে তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে একের পর এক অভিযোগ আমার এবং আমার অফিসের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে। যা গণতন্ত্রের জন্য ভালো উদাহরণ নয়।’   

এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী রাজ্যপালের সমালোচনা করে বলেন,  ‘উনি তো জগদীপ ধনকড় হিসেবে ওখানে যাননি, গেছেন রাজ্যপাল হিসেবে। স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্মরণ করা অথবা সংবিধান প্রণেতাকে মালা দেওয়ার জন্য উনি গেছেন মনে হল না। মনে হল, জগদীপ ধনকড়ের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটানোর জন্য উনি গেছেন। এটা ঠিক বলে আমি মনে করি না।’ 

সুজন বাবু অবশ্য বলেন, আমাদের রাজ্যে গণতন্ত্র নেই এটা একদম ঠিক কথা। কিন্তু ত্রিপুরাতেও (বিজেপিশাসিত) গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র লঙ্ঘিত হচ্ছে গোটা ভারতবর্ষে। মানুষ কেউ আপত্তি করলে, প্রতিবাদ করলে সে দেশদ্রোহী হয়ে যাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।  

অন্যদিকে, তৃণমূলের সিনিয়র নেতা অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি বলেন, ‘সংবিধানে ১৬৩ ধারায় বলা আছে উনি মন্ত্রীসভার উপদেশ অনুযায়ী চলবেন। উনি সেই সংবিধান ভঙ্গ করছেন। উনি রাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে অসম্মান করছেন,  স্পিকারকে অসম্মান করছেন, এসব দিনের পর দিন চলতে পারে না।’ গোটা ভারতের মধ্যে কেবল জগদীপ ধনখড়ই এ রকম করছেন বলেও অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।