ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল হায়দ্রাবাদ, কোলকাতার আইপিএল শেষ
-
কোলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর হায়দ্রাবাদের খেলোয়াড়দের উল্লাস
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এলিমিনেটর ম্যাচে কোলকাতা নাইট রাইডার্সকে ২২ রানে হারিয়েছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। এর ফলে তৃতীয়বারের মতো ট্রফি জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল গৌতম গম্ভীরের দলের। শুক্রবার কোয়ালিফায়ারে গুজরাট লায়ন্সের সঙ্গে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে ডেভিড ওয়ার্নারের দল।
বুধবার রাতে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান সংগ্রহ করে হায়দ্রাবাদ। ১৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে হায়দ্রাবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১৪০ রানেই থামতে হয় অলরাউন্ডার সাকিববিহীন কোলকাতাকে। ৭ বলে ১১ রান করে রবীন উথাপ্পা আউট হলে অধিনায়ক গৌতম গাম্ভীর ৩৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন কলিন মুনরোর সঙ্গে। মুনরো ১৬ রান ৭ম ওভারে রানআউট হলে চাপের মুখে পড়ে কোলকাতা। ১০ম ওভারের প্রথম ওভারে গৌতম গাম্ভীর সাজঘরে ফিরলে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে কেকেআর। গৌতম গাম্ভীর ২টি চার ও একটি ছয় মেরে ২৮ রান করে বেন কাটিংয়ের বলে ধরাশায়ী হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। চারে নেমে মানিশ পান্ডে ২টি চার ও ১টি ছয় মেরে ৩৬ রান করেন। এছাড়া, সুরেকুমার যাদব ১৫ বলে ১টি ছয় ও ১টি চার মেরে ২৩ রান করে মইসেস হেনরিকসের বলে শিখর ধাওয়ানের হাতে ধরা পড়ে মাঠ ত্যাগ করেন।
হায়দ্রাবাদের হয়ে সবচেয়ে বেশী উইকেট শিকার করেছেন ভুবেনশ্বর কুমার। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তিনি তিনটি দুর্দান্ত উইকেট শিকার করেন। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার মইসেস হেনরিকস দুইটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া বারিন্দার স্রান ও বেন কাটিং একটি করে উইকেট নিয়েছেন। মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকলেও দলে জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

সাকিবের বদলে জায়গা পাওয়া মরনে মরকেল প্রথম ধাক্কা দিয়েছেন শিখর ধাওয়ানকে বোল্ড করে। দলের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ৩টি চার মেরে ২৮ রান করে কুলদিপ যাদবের বলে বোল্ড আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। অলরাউন্ডার মইসেস হেনরিকস ২১ বলে ১টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৩১ রান করে কুলদিপ যাদবের বলেই ধরাশায়ী হন। হায়দ্রাবাদের হয়ে সবচেয়ে বেশী রানের ইনিংসটি খেলেন যুবরাজ সিং। ৩০ বলে ৮টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ৪৪ রান করে জ্যাসন হোল্ডারের বলে বোল্ড আউট হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন তিনি। পাঁচে নেমে দীপক হুদা ১৩ বলে ২টি ছয় হাঁকিয়ে রান আউটের শিকার হন।
কোলকাতার হয়ে সবচেয়ে বেশী তিনটি উইকেট শিকার করেছেন বাঁহাতি স্পিনার কুলদিপ যাদব। এছাড়া ডানহাতি পেসার মরনে মরকেল ও ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
ব্যাট হাতে ৩১ রান করার পর বল হাতেও ২ উইকেট পাওয়ায় ময়েসিস হেনরিকস ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান।
ম্যাচ শেষ হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার জানালেন এই জয় খুব একটা সহজ ছিল না। তবে, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে এক ধরনের বিশ্বাস ছিল যে, তারা এই ম্যাচ জিততে পারবে, স্কোর বোর্ডে খুব বেশী রান না থাকার পরও বোলারদের এমন পারফর্মেন্সে বেশ খুশি হয়েছেন অধিনায়ক ওয়ার্নার।
“আমি মনে করি শেষ ওভারে বিপুল শর্মার সেই দুই ছক্কাই আমাদের ম্যাচের রূপ পাল্টে দিয়েছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল আরেকটু বেশী রান করার; তবে স্কোর বোর্ডে ১৬০ রান থাকাতে আমাদের মধ্যে জয়ের একটা আশা ছিল। হয়তবা কাঙ্ক্ষিত টার্গেট দিতে পারি নি কিন্তু যা আছে তাকে পুঁজি করেই আমরা এই ম্যাচ খেলেছি। আমাদের বোলাররা তাদের সেরাটা দিয়েই আজকে মাঠে বল করেছে, অসাধারণ ফিল্ডিং করেছে, চমৎকার ক্যাচ ধরেছে, রান আউট হয়েছে। সবকিছু আমাদের পক্ষেই ছিল। আমরা আমাদের ফিল্ডিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম, কিন্তু এই ডিপার্টমেন্টে আমরা বেশ ভালোই উন্নতি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “দুই দলেরই সমান শক্তিবল ছিল। আমি কোলকাতাকেও অভিনন্দন জানাতে চাই, তারাও চমৎকার খেলেছে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের সামলে নিতে পারি। আমরা জানতাম ফাইনালে উঠতে হলে আমাদের সব ম্যাচ জিততে হবে। আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম শেষ দুই ম্যাচে কিন্তু এই জয় আমাদের গুজরাটের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে সাহায্য করবে। এখন শুধু আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে খেলতে হবে।”
উল্লেখ্য, আইপিএলের শ্বাসরুদ্ধকর প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।#