বিহারে উপনির্বাচনে ‘মিম’-বিএসপি প্রার্থী মাঠে নামায় আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে
https://parstoday.ir/bn/news/india-i114906-বিহারে_উপনির্বাচনে_মিম’_বিএসপি_প্রার্থী_মাঠে_নামায়_আকর্ষণীয়_প্রতিদ্বন্দ্বিতা_হতে_চলেছে
ভারতের বিহার রাজ্যে দু’টি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। গোপালগঞ্জ ও মোকামা আসনটি আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২৪, ২০২২ ১৬:২৩ Asia/Dhaka
  • বিহারে উপনির্বাচনে ‘মিম’-বিএসপি প্রার্থী মাঠে নামায় আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে

ভারতের বিহার রাজ্যে দু’টি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। গোপালগঞ্জ ও মোকামা আসনটি আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যটিতে ‘মিম’ প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং সাধু যাদবের প্রার্থী মাঠে নামায় এরফলে অন্য দলও প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ৩ নভেম্বর গোপালগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফল ঘোষণা হবে ৬ নভেম্বর।    

গোপালগঞ্জ আসনে বিজেপি ও আরজেডির মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখানে কুসুম দেবীকে ‘বিজেপি’র প্রার্থী এবং ‘আরজেডি’ মোহন গুপ্তাকে প্রার্থী করেছে। ওয়াইসি-সাধু যাদবের প্রবেশ এই উপনির্বাচনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এখানে ‘মিম’-এর প্রার্থী আবদুল সালাম।  

অন্যদিকে, ‘বিএসপি’ থেকে প্রার্থী হয়েছেন সাধু যাদবের স্ত্রী ইন্দিরা যাদব। সাবেক বিধায়ক ও সাবেক এমপি সাধু যাদব হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ‘আরজেডি’ প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবের শ্যালক।

উপনির্বাচনে ওয়াইসি’র ‘মিম’ দলকে একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে মনে করা হচ্ছে।  কারণ এখানকার মুসলিম জনসংখ্যা। গোপালগঞ্জে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কমপক্ষে ৬৫ হাজার। এই ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যস্ত রয়েছে ওয়াইসির দল। ২০২০  সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ওয়াইসির দল ‘মিম’ মুসলিম-অধ্যুষিত সীমাঞ্চলে সবাইকে অবাক করে রাজ্যটিতে বিজয়ের পতাকা তুলেছিল। দলের পাঁচজন বিধায়ক জয়ী হয়েছিলেন। কার্যত ‘মিম’-এর দাপটে আরজেডি ক্ষমতা থেকে দূরে থাকলেও পরে চারজন বিধায়ক আরজেডিতে যোগ দেন।      

অন্যদিকে, লালুপ্রসাদ যাদবের শ্যালক সাধু যাদবের স্ত্রী ইন্দিরা যাদব ‘বিএসপি’ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গোপালগঞ্জে যাদবদের মধ্যে সাধু যাদবের ভালো দখল রয়েছে। তিনি স্থানীয়। গোপালগঞ্জ লালু যাদবের হোম জেলা হওয়া সত্ত্বেও, কংগ্রেস ২০২০ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এখানে মহাজোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং তৃতীয় স্থানে ছিল। ২০২০ সালে  সাধু যাদব ‘বিএসপি’ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং ৪১ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। গোপালগঞ্জে প্রায় ৪৫ হাজার ‘যাদব’ ভোটার রয়েছে। ২০০৪ সালের পর আরজেডি এখানে কখনও জেতেনি।  

সাধু যাদব ১৯৯৫ সালে এখানে ‘আরজেডি’  থেকে বিধায়ক এবং ২০০৪ সালে এমপি হন। লালু যাদবের সঙ্গে বিবাদের পর তিনি ‘আরজেডি’ থেকে বিচ্ছেদ ঘটান। সাধু যাদব ও ওয়াইসি ফ্যাক্টর কাজ করলে গোপালগঞ্জে বিজেপির পথ সহজ হতে পারে।

বিজেপির সুভাষ সিং টানা চারবার গোপালগঞ্জ আসনে জিতেছিলেন। শ্রী সিং বিহার সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন,  কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর এ আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। প্রয়াত সুভাষ সিংয়ের স্ত্রী কুসুম দেবীকে বিজেপি থেকে মনোনীত করা হয়েছে, যার ফলে দলটি সহানুভূতির ভোটের আশা করছে। সুভাষ সিং ছিলেন রাজপুত। গোপালগঞ্জ আসনে উচ্চবর্ণের ভোটার রয়েছে কমপক্ষে ৫৬ হাজার।  

অন্যদিকে, ‘আরজেডি’ প্রার্থী মোহন গুপ্তা বৈশ্য সম্প্রদায়ের। এখানে বৈশ্য ভোটারের সংখ্যাই বেশি। তিনি এখানে বৈশ্য জাতির মধ্যে জনপ্রিয় এবং একজন বড় ব্যবসায়ীও। বৈশ্য সম্প্রদায়কে বিজেপির ভোটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু ‘আরজেডি’র মোহন গুপ্তা মাঠে নামায় এটি মহাজোটের দিকেও যেতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ‘আরজেডি’র সঙ্গে ‘জেডিইউ’  মহাজোটে  আসায় তাদের দাবিও জোরালো বলা হচ্ছে। তিনি বিহার বৈশ্য মহাসঙ্ঘের সহ-সভাপতিও। একইসঙ্গে এই বিধানসভা আসনে ‘অনগ্রসর শ্রেণি’র ভোটব্যাঙ্ক ৫০  হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ আসনের উপনির্বাচন বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।   

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২৪  

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।/,