ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা, বিজেপিকে পরাস্ত করার আহবান
https://parstoday.ir/bn/news/india-i118942-ত্রিপুরা_বিধানসভা_নির্বাচনে_বামফ্রন্টের_প্রার্থী_তালিকা_ঘোষণা_বিজেপিকে_পরাস্ত_করার_আহবান
ভারতে বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় কংগ্রেসের জন্য ১৩টি আসন ছেড়ে রেখে ৪৬টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা রাজ্য বামফ্রন্ট।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৬, ২০২৩ ১৪:৪৬ Asia/Dhaka
  • ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা, বিজেপিকে পরাস্ত করার আহবান

ভারতে বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় কংগ্রেসের জন্য ১৩টি আসন ছেড়ে রেখে ৪৬টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা রাজ্য বামফ্রন্ট।

গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের মধ্যে আগেভাগেই বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হল। রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপি অবশ্য এখনও তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী ফল ঘোষণা করা হবে ২ মার্চ।   বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজ্যে বিজেপিকে পরাজিত করতে বিজেপি বিরোধী সমস্ত ভোট একত্র করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মোট ৬০ আসন সমন্বিত বিধানসভায় একটি আসনে নির্দলীয় প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন বামফন্ট নেতৃত্ব। রাজ্যে নির্বাচনী আসন সমঝোতা হয়েছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে। সেই অনুযায়ী ৬০ আসনের আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের জন্য ১৩টি আসন ছাড়া হয়েছে।  

বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান নারায়ণ কর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে সময়ের প্রয়োজনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন। সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেও কংগ্রেস এবং ‘তিপ্রা মথা’র সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। বামফ্রন্টে সিপিএম ৪৩টি আসনে লড়ছে, তার মধ্যে ২৩টিতেই নতুন প্রার্থী। নারী প্রার্থী রয়েছেন দু’জন। এছাড়া বামফ্রন্টের অন্য তিন শরিক সিপিআই, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লকের জন্য আছে একটি করে আসন।

ত্রিপুরায় ৬০ আসনের বিধানসভায় ২০টি আসন ‘তফসিলি উপজাতি’দের জন্য সংরক্ষিত। ১০টি আসন ‘তফসিলি জাতি’র জন্য সংরক্ষিত। ‘উপজাতি’দের জন্য সংরক্ষিত ২০টি আসনের মধ্যে ৩টি আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে বাকি ১৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট। ১০টি ‘তফসিলি’ সংরক্ষিত আসনের সবগুলোতেই প্রার্থী থাকবে বামফ্রন্টের।   

১৯৬৭ সাল থেকে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে কংগ্রেস ও সিপিএম সবসময়ই একে অপরের তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। কখনও কংগ্রেস আবার কখনও সিপিএম রাজ্যটিতে ক্ষমতায় ছিল। ২০১৮ সালে বিজেপি এখানে উভয় দলকেই বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপির বিপ্লব কুমার দেব। পরবর্তীতে তাদের মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। এবারের নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ও সিপিএম একত্রিত হয়েছে।

ওই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. অজয় কুমার সিং বলেন, 'ত্রিপুরা  একসময়ে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। উভয় দলই ৫৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে শাসন করেছে। ২০১৮ সালে যখন বিজেপি উভয় দলকেই পরাজিত করেছিল, তখন তাদের অসুবিধা বেড়ে যায়। বিজেপির ইতিহাস দেখায় যে একবার ক্ষমতায় এলে সহজে যায় না। এই কারণেই ফেব্রুয়ারি-মার্চে প্রস্তাবিত নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বার হাত মিলিয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম।’    

তিনি আরও বলেন,  ‘২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপি এখানে দৃঢ়ভাবে তাদের পা স্থাপন করেছে। বিজেপি বিপুল সংখ্যক অ-কমিউনিস্ট নেতাদের দলের সাথে যুক্ত করেছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের অনেক নেতা বিজেপির পক্ষে গেছে।  নির্বাচনে ৬০টি আসনের মধ্যে ৩৩টি আসনে জয়লাভ করে দলটি। বিজেপি আইপিএফটি’র সাথে ত্রিপুরায় সরকার গঠন করে।’     

তিনি বলেন, ‘এবার সিপিএম এবং কংগ্রেসের জোটে কিছু আসনে কংগ্রেস লাভবান হতে পারে, কিছু আসনে বিজেপির ক্ষতি হতে পারে। শুধুমাত্র সিপিএমের প্রতি ক্ষুব্ধ মানুষ কংগ্রেসকে ভোট দেয়। এবার সিপিএম-কংগ্রেস হাত মেলানোয় এই ভোট বিজেপির কাছে আসতে পারে। কিন্তু এমন কিছু আসন রয়েছে যেখানে সিপিএমের ভোট সহজেই কংগ্রেসের কাছে চলে যাবে। এর জেরে ভুগতে হতে পারে বিজেপিকে। এবার ত্রিপুরার গ্রামীণ এলাকায় বিজেপি বনাম সিপিএমের সরাসরি লড়াই হবে। আদিবাসী এলাকায় বিজেপি বনাম ‘ত্রিপ্রা মথা’র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং শহর এলাকায় বিজেপি বনাম কংগ্রেসের লড়াই হবে। শহর এলাকায় বিজেপি খুবই শক্তিশালী, ফলে এর সুবিধা প্রার্থীরা পেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. অজয় কুমার সিং। # 

পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/২৫ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।