পশ্চিমবঙ্গে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি
-
পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘আইএসএফ’ বিধায়ক পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তিনি আজ (শনিবার) উত্তর ২৪ পরগণা জেলার মাটিয়াগাছায় দলীয় এক কর্মসূচি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনোরকম অরাজকতাকে প্রশ্রয় দিই না আর দেবও না। আমি আগেই রামনবমীকে কেন্দ্র করে যে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল ওখানে তার নিন্দা জানিয়েছি। একইসঙ্গে যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার। এটা সামাজিক অবক্ষয় বললে কম হবে, এই যে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ একে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। তবে সেনা নামলেই যে সমাধান হয়ে যাবে, পুলিশ যে সমাধান করতে পারবে না এর সাথে আমি সহমত নই। আমি পুলিশের কাছে আশা করব এবং রাজ্যবাসীর কাছে আশা করব শান্ত থাকুন এবং কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক শক্তির ফাঁদে কেউ আমরা পা দেবো না।’
বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি রাজ্যে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্পর্কে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্পর্কে আমরা আতঙ্কে আছি। কেউ ভোটব্যাঙ্ককে ধরে রাখার জন্য, কেউ সংগঠনকে চাঙ্গা করার জন্য হয়ত এধরণের ঘটনা ঘটাতে পারে। সেজন্য আমরা বাংলার মানুষের স্বার্থে, বাংলার ঐক্যের কথা মাথায় রেখে, বাংলার সুনামের কথা মাথায় রেখে কোনোরকম সাম্প্রদায়িক শক্তির ফাঁদে আমরা পা দেবো না। আমরা বিগত দিনে যেমন ছিলাম, সম্প্রীতির সঙ্গে আগামীদিনে তেমন থাকব।’
তিনি রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘রাজ্যপালের আরও দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, ওই ঘটনার তিনিও তদারকি করুন যাতে যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।’
এদিকে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস আজ বলেছেন, ‘হাওড়ার পরিস্থিতির দিকে পুলিশ নজর রাখছে। রাজভবনেও আলাদা সেল তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাওড়ার শিবপুরের ফজির বাজারের পিএম বস্তি এলাকা। মিছিল চলাকালীন জিটি রোডের উপর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রচুর বহিরাগত যুবক বাইক নিয়ে এসে এলাকায় চড়াও হয়। তাদের হাতে ছিল হকি স্টিক, তলোয়ার ইত্যাদি। এ সময়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু ট্রলি ভ্যান, ম্যাটাডোর ও ছোট গাড়িতে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৪৪ ধারা জারি করার পাশাপাশি ওই ঘটনার সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।