বিজেপির ডাকা উত্তরবঙ্গ বনধে বিক্ষিপ্ত গোলযোগ, বনধকে ব্যর্থ বললেন কুণাল
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ডাকা উত্তরবঙ্গ বনধে বিক্ষিপ্ত গোলযোগ হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে এক নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং পরবর্তীতে পুলিশের গুলিতে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে আজ (শুক্রবার) বিজেপির পক্ষ থেকে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দেওয়া হয়।
রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, 'বিজেপির ডাকা উত্তরবঙ্গ বনধ এবং বনধের উদ্দেশ্য দুটোই ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ সাড়া দেননি। জনজীবন কার্যত সব জায়গাতে স্বাভাবিক। অল্প কিছু জায়গায় বিজেপির প্ররোচনায় গোলমালের ভয়ে কিছু মানুষ দেরিতে বেরিয়েছেন। কিছু দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি মানুষের সমর্থন পায়নি। '
আজ বনধকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কুচবিহারে বিজেপি নেতা- কর্মীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বের করেন। সকালে শহর সংলগ্ন দক্ষিণ খাগরাবাড়ি এলাকায় একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বনধ সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে। এরপর বিজেপির জেলা সহসভাপতি দীপা চক্রবর্তী ও দলের মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী অর্পিতা নারায়ণের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের চাকির মোড়ে আসে। সেখানে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কয়েকটি বাস থামিয়ে গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চালকদের তারা শাসান বলে অভিযোগ। বন্ধ করে দেওয়া হয় চাকির মোড় এলাকার বাজার।
এই পরিস্থিতিতে চাকির মোড় এলাকায় কুচবিহার থেকে দিনহাটাগামী একটি সরকারি বাস এলে বনধ সমর্থকরা পাথর নিক্ষেপ করে গাড়িটির কাঁচ ভেঙে দেন। এতে গাড়ি চালক রশিদুল হক কিছুটা আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডিএসপি চন্দন দাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী।
অন্যদিকে, বনধ ব্যর্থ করতে লাঠি-সোটা নিয়ে চাকির মোড় এলাকায় রাজ্যে শাসক দল তৃণমূলের একটি পালটা মিছিল বের হয়। তারা বেশ কিছু বনধ সমর্থককে ধাওয়া করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কোনওভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে।
শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে সরকারি বাসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
মারধর করা হয় সরকারি বাসের চালককে। শুধু তাই নয়, বাস, টোটো গাড়ির যাত্রীদের টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড উলটে ফেলে দেওয়া এবং পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শেষমেশ বনধ সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
কুচবিহারের ঘুঘুমারির বিজেপি মণ্ডল সভাপতি অনন্ত দে সরকার বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে বিজেপি বনধ ডেকেছে। গত কয়েক দিন ধরে কালিয়াগঞ্জে যা ঘটছে তারই প্রতিবাদে এই বনধ। বনধের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ ভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। আচমকা আমাদের আক্রমণ করে তৃণমূলের কর্মীরা।’
ঘুঘুমারির তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি দীপক কুমার দেব বলেন, ‘সকাল থেকে ওরা (বিজেপি কর্মীরা) প্রচণ্ড তাণ্ডব চালাচ্ছে ঘুঘুমারির বুকে। দোকানপাটে ভাঙচুর চালাচ্ছে। মাছবাজার এবং ফলের দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জনগণ সেই অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে প্রতিরোধ করেছে’ বলেও তৃণমূল নেতা দীপক কুমার দেব মন্তব্য করেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।