ভারতে নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন, বয়কট করলেন বিরোধীদের একাংশ, তীব্র সমালোচনা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i123706-ভারতে_নয়া_সংসদ_ভবনের_উদ্বোধন_বয়কট_করলেন_বিরোধীদের_একাংশ_তীব্র_সমালোচনা
ভারতে বহুলালোচিত নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মে ২৮, ২০২৩ ১০:৩৫ Asia/Dhaka
  • ভারতে নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন, বয়কট করলেন বিরোধীদের একাংশ, তীব্র সমালোচনা

ভারতে বহুলালোচিত নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আজ (রোববার) এই উপলক্ষে হোম-যজ্ঞসহ বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। পুজোয় শামিল হন প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সকাল সাড়ে ৭টায় যজ্ঞ ও পুজো করে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সোনার রাজদণ্ড সেঙ্গলকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন মোদী। তারপর হাতে তুলে নেন সোনার রাজদণ্ড। সেঙ্গল হাতে নিয়ে ব্রাহ্মণ পুরোহিত পরিবেষ্টিত হয়ে স্পিকারকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ভবনের লোকসভায় প্রবেশ করেন মোদী। নির্ধারিত জায়গায় স্পিকারের আসনের পাশে ওই সোনার রাজদণ্ড স্থাপন করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীক হিসেবে এই সেঙ্গল প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর হাতে তুলে দেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড লুই মাউন্টব্যাটন।

এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন,  ‘ভারত শুধু একটি গণতান্ত্রিক দেশ নয়, গণতন্ত্রের জননীও বটে।

মাদার অফ ডেমোক্রেসিও। ভারত আজ বিশ্ব গণতন্ত্রের একটি বড় ভিত্তি। গণতন্ত্র আমাদের জন্য শুধু একটি ব্যবস্থা নয়, এটি একটি সংস্কৃতি, একটি ধারণা, একটি ঐতিহ্য।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে ২৫ বছর পর, ভারত তার স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে। আমাদের ২৫ বছরের একটি অমৃতকালও আছে। এই ২৫ বছরে আমাদের একসাথে ভারতকে একটি উন্নত দেশ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুলামীর পর আমাদের ভারত অনেক কিছু হারিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করেছিল। সেই যাত্রা বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বহু চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে স্বাধীনতার স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে।’   

এদিকে নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে  রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানোয়, অনুষ্ঠান বয়কট করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম, আম আদমি পার্টি, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি, জেডিইউ, আরজেডিসহ ২১টি বিরোধী দল।

এদিকে, আজ সকালে বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল ‘আরজেডি’ নয়া সংসদ ভবনকে কফিনের সঙ্গে তুলনা করায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দলটির সিনিয়র নেতা শক্তি শিং যাদব বলেছেন, ‘আমাদের টুইটে কফিনের ছবি আসলে গণতন্ত্রের কবরের প্রতীক। আমরা শুরু থেকে বলে এসেছি সংসদ গণতন্ত্রের মন্দির। সেই স্থানকে এখন যেদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশ সেটা মেনে নেবে না। সংবিধান ও পরম্পরা, দুইয়ের উল্লঙ্ঘন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি সংসদের সর্বেসর্বা। সংবিধানই এই মান্যতা দিয়েছে। কিন্তু এই স্থানকে গণতন্ত্রের কবর করে তুললে প্রশ্ন তো উঠবেই। প্রধানমন্ত্রী কাছে অনুরোধ, দয়া করে গণতন্ত্রকে কবরে পাঠাবেন না।’    

বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত কুমার গৌতম পাল্টা জবাবে বলেছেন,  এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক! আজ ওরা এটাকে কফিনের সঙ্গে তুলনা করছে। পুরনো সংসদ ভবনকেও কী তাহলে ‘জিরো’  বলা হবে? আমরা এর আগে জিরোয় বসতাম। আসলে এদের মানসিকতাই খারাপ।

সংসদের উদ্বোধন নিয়ে কটাক্ষ করেছে এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এমপি। তিনি বলেন, বিরোধীদের ছাড়া নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন অসম্পূর্ণ। এ থেকেই স্পষ্ট দেশে কোনও গণতন্ত্র নেই।’    

সমাজবাদী পার্টির নেতা এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী  স্বামী প্রসাদ মৌর্য নয়া সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ভারতের পুরোহিতদের দ্বারা পুজো করাতে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, দক্ষিণের মৌলবাদী ব্রাহ্মণ গুরুদের ডাকা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটা বিজেপির কলুষিত মানসিকতা এবং জঘন্য চিন্তাভাবনার পরিচয়। একে ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন স্বামী প্রসাদ মৌর্য। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২৮  

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।