নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার সুজয়কৃষ্ণ, রাজনৈতিক মহলে কটাক্ষ
-
সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে (কালীঘাটের কাকু) গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অফিসে এক সময় কাজ করতেন সুজয়কৃষ্ণ। এদিকে, ওই ইস্যুতে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী আজ তৃণমূল নেতা অভিষেকের নাম না করে তাকে ‘খোকা বাবু’ এবং ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে ‘কাকা বাবু’ উল্লেখে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এই কাকা বাবু হচ্ছেন, ‘খোকা বাবু’র ‘কাকা বাবু’। এই কাকা বাবু হচ্ছেন টাকা তোলার এজেন্ট। এই পশ্চিমবঙ্গে চোরদের দলের চোর রথী-মহারথীরা সব জড়িত, তাদেরকে ধরবে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে ‘খোকা বাবু’কে এখন ধরবে না। খোকা বাবুর ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই। দিদির সঙ্গে মোদীর যা চুক্তি আছে, ‘খোকা বাবু’ এখন ধরা পড়বে না।’
অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে বলেছেন, কোমরের উপরে উঠে গেছে এজেন্সি, এর পরে কান ধরতে হবে। আর মাত্র একটা ধাপ, কান ধরলেই ‘মাথা’ এমনিতেই চলে আসবে। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের আত্মীয়রা যুক্ত এবং এই দুর্নীতিতে মুখ্যমন্ত্রীও যুক্ত বলে অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর।
এদিকে, আজ আদালতে ‘ইডি’ জানিয়েছে, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার সঙ্গে সুজয়কৃষ্ণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘ইডি’। সেজন্য সুজয়কৃষ্ণকে ১৪ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতের কাছে আর্জি জানান ‘ইডি’র আইনজীবী।
আদালতে ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি বলেন, যে সব মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেখান থেকে বহু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ফোন থেকে বেশ কিছু তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৩১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।