স্বৈরাচারের অবসানের জন্য ১২ বছর পর আমরা রামলীলা ময়দানে জড়ো হয়েছি: কেজরিওয়াল
https://parstoday.ir/bn/news/india-i124276-স্বৈরাচারের_অবসানের_জন্য_১২_বছর_পর_আমরা_রামলীলা_ময়দানে_জড়ো_হয়েছি_কেজরিওয়াল
ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, স্বৈরাচারের অবসানের জন্য ১২ বছর পর, আবার আমরা দিল্লির রামলীলা ময়দানে জড়ো হয়েছি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১১, ২০২৩ ১২:৫৮ Asia/Dhaka
  • কেজরিওয়াল
    কেজরিওয়াল

ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, স্বৈরাচারের অবসানের জন্য ১২ বছর পর, আবার আমরা দিল্লির রামলীলা ময়দানে জড়ো হয়েছি।

আজ (রোববার)দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে এভাবেই কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন কেজরিওয়াল। কেজরিওয়াল বলেন, ‘১২ বছর আগে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই রামলীলা ময়দান জড়ো হয়েছিলাম। বন্ধুরা,  আজ ১২ বছর পর আবারও একই ময়দানে আমরা এক অহংকারী স্বৈরশাসককে এ দেশ থেকে সরাতে সমবেত হয়েছি। স্বৈরাচারের অবসানের জন্য পুনরায় আমরা জড়ো হয়েছি। সে সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন যেভাবে সফল হয়েছিল। আজ এই মঞ্চ থেকে যে আন্দোলন শুরু হচ্ছে, আমাদের দেশের মধ্যে যে স্বৈরাচার আনা হচ্ছে, তাকে শেষ করতে যে আন্দোলন শুরু হচ্ছে, সংবিধান রক্ষার যে আন্দোলন আজ শুরু হচ্ছে, খুব শিগগিরি এই আন্দোলনও সফল হবে।’মোদী সরকার দিল্লির মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন কেজরিওয়াল।

কেন্দ্রীয় সরকারের অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে আজ এই সমাবেশ ডেকেছিল আম আদমি পার্টি। আম আদমি পার্টির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মোদী সরকার দিল্লির নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে দিতে চায় না। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পাশাপাশি আজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা ভগবন্ত মান, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্যসভার এমপি কপিল সিব্বলও ওই সমাবেশে শামিল হয়েছিলেন। 

কেজরিওয়াল বলেন, আমি জানি না মোদীজি কেন দিল্লির পেছনে লেগে আছেন। ২০১৪ সালে দিল্লির মানুষ বিজেপিকে ৭টি লোকসভা আসন দিয়েছিল। দিল্লির মানুষ বলেছে, মোদীজি, দিল্লির যত্ন নিন। দিল্লির মানুষ বিধানসভায় বিজেপিকে মাত্র ৩টি আসন দিয়েছিল। এর মানে পরিষ্কার, দিল্লির মানুষ বলেছে মোদীজি, দিল্লির দিকে তাকাবেন না। কেজরিওয়াল আরও বলেন, ২০১৯ সালে আবার সমস্ত লোকসভা আসন বিজেপিকে দেওয়া হয়েছিল, যখন ২০২০ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লিবাসী ৭০ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬২টি আম আদমি পার্টিকে দিয়েছিল। এ ভাবে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে দিল্লির দিকে তাকাবেন না।’

বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল এমপি বলেন, আমি দিল্লির মানুষের জন্য লড়াই করছি। ১৪০ কোটি মানুষ এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করবে।

গত ১১ মে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছিল, আমলাদের রদবদল থেকে যাবতীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে দিল্লির নির্বাচিত সরকারের। কিন্তু তারপরেই কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স এনে ১০ পাতার গেজ়েট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ‘জাতীয় রাজধানী সিভিল সার্ভিসেস’ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হচ্ছে।  আমলাদের নিয়োগ এবং বদলির ব্যাপারে তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। (দিল্লির) মুখ্যমন্ত্রী হবেন এর চেয়ারপার্সন। কিন্তু এতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নরের প্রতিনিধি সংখ্যা বেশি থাকায় আমলাদের বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারাই কার্যত ‘নির্ণায়ক’ হবেন। ১২ মে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ আনেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ  কেজরিওয়াল। তার পর থেকে ওই ইস্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছেন কেজরিওয়াল। আজ দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হন তিনি।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১১       

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।