পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে তৃণমূল ও আইএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র তৃণমূল ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (মঙ্গলবার)কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ভাঙড়-২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকা।
এ ব্যাপারে আজ ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক ও ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকি রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, ‘মুড়ি মুড়কির মতো বোমা পড়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানোর পরেও সেটা বন্ধ হয়নি। আমাদের কর্মীরা যথাযথ সময়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নমিনেশন জমা দিতে যাচ্ছিল, সেখানে মারধর হয়েছে। আমাদের প্রার্থী জখম হয়েছে। যখন কর্মী সমর্থকদের তারা পারেনি, তখন প্রশাসনকে কাজে লাগাচ্ছে। শাসকদল সকাল থেকে আইএসএফের নমিনেশন আটকানোর জন্য এটা করছে।’
বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আরও বলেন, ‘আইএসএফের মতাদর্শ হচ্ছে, বোমা, গুলি, পিস্তল হানাহানি বর্জিত সমাজ ব্যবস্থা। আমরা বোমা-গুলিতে বিশ্বাস করি না।, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। মানুষের রায়ের প্রতি বিশ্বাসী, মানুষের রায়ের প্রতি আমরা ভরসা রাখি। সুতরাং, এ ধরণের অপকর্ম আমাদের দ্বারা হবে না। আমি সবাইকে চিনি না। তবে এর পিছিনে মদদদাতা যিনি আছেন, যাদের নির্দেশে হচ্ছে, সেটা শওকত মোল্লা সাহেব, আরাবুল সাহেবদের মতো (তৃণমূল) নেতাদের নির্দেশে অপকর্মগুলো এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে।’
অন্যদিকে, ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ও ভাঙড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। নওশাদ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের ১০/১২টা গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় মুড়ি মুড়কির মতো বোমা পড়েছে। ইতোমধ্যে আমরা যা খবর পাচ্ছি আমাদের একজন কর্মীর গুলি লেগেছে।’
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, ভাঙড়-২ নম্বর ব্লকের বিজয়গঞ্জ বাজারে আইএসএফ এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। যার ফলে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দু’পক্ষের মধ্যে বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, ওই এলাকায় মুহুর্মুহু বোমা পড়তে দেখা গেছে।একইসঙ্গে সাত রাউন্ড গুলিও চলেছে বলে খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। এ সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করার পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি এবং বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে। তার জেরে প্রাথমিক ভাবে পিছু হটে পুলিশ।পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয়।
এদিকে, হামলা নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল এবং আইএসএফ। দু’পক্ষের কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে উভয় দলের দাবি। ওই ঘটনায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা কয়েক জন আইএসএফ কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ আইসএফের।
তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক শওকত মোল্লার অভিযোগ, মঙ্গলবার তৃণমূলের ‘নবজোয়ার যাত্রা’ কর্মসূচি বাতিল করতেই সমাজবিরোধীদের একত্রিত করে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে আইএসএফ। এ জন্য ভাঙড়ের আইসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেই দায়ী করেছেন তিনি।এ জন্য তাকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। আইসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/১৩