বেঁচে থাকলে বিজেপিকে সরাবই, আমাকে আটকাতে পারবে না: মমতার চ্যালেঞ্জ
-
বক্তব্য রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা, রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক বাধার অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত ধর্না কর্মসূচিতে তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকলে বিজেপিকে সরাবই। আমাকে আটকাতে পারবে না।’
আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে ধর্নামঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, দিল্লির বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে দুর্বল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তাঁর দাবি, দলের বিধায়ক, কাউন্সিলর ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং অনেককে দল ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
মমতা বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মাইকের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। কিন্তু এভাবে আমাকে থামানো যাবে না। যেখানে সুযোগ পাব, সেখানেই মানুষের পাশে দাঁড়াব।’
সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। মমতার অভিযোগ, সোনারপুরে এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে অভিষেককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, হেলমেট না থাকলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করা হয়েছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নার অনুমতি না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও পরে পুলিশ ওয়াই চ্যানেলে সীমিত সময়ের জন্য ধর্নার অনুমতি দেয়।
ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা পুলিশের উদ্দেশে বলেন, কর্মসূচিতে আসা মানুষকে যেন বাধা দেওয়া না হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশকে দোষ দিচ্ছি না। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলে।’
মমতা আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘গণতন্ত্রের ওপর বুলডোজার চালানো হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে কী হচ্ছে, সেটি আপনার দেখা উচিত। যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কী করছে, তা খতিয়ে দেখুন।’
মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে বি. আর. আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান মমতা। এরপর তিনি ওয়াই চ্যানেলে ধর্নামঞ্চে যোগ দেন। সেখানে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এটিই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। এর আগে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বহু বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিতর্ক তৃণমূলের ভেতরে অস্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২