নরেন্দ্র মোদির নীতি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যকার বিভেদ আরো প্রকট করেছে: জরিপ
নয়াদিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটিজ (সিএসডিএস)-এর সাম্প্রতিক জরিপ দেখা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতি দেশে ধর্মীয় বিভাজন আরও গভীর করেছে। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিভেদ আরো প্রকট হয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতাসীন হয় এবং কংগ্রেস পার্টিকে ছাড়িয়ে জাতীয়তাবাদের ধ্বজাধারী হিসেবে নিজেদেরকে তুলে ধরে। এভাবে তারা ছোট বড় বিভিন্ন শহর ও গ্রামে প্রভাব বিস্তারকারী আরএসএস ও শিবসেনার মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সর্বসাধারণের ভোট ও সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে, নরেন্দ্র মোদি সরকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যর্থ হওয়ার পর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট পাওয়ার আসায় আবারো হিন্দুত্ববাদী শ্লোগানকে জোরেশোরে তুলে ধরছে। এর ফলে ভারতীয় সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী আলাঈ এ ব্যাপারে বলেছেন, 'ভারতে বহু জাতি, গোত্র ও ধর্মের মানুষের বসবাস। তাই এ দেশটির ঐক্যের একমাত্র উপায় হচ্ছে জাতীয়তাবাদের শ্লোগান। প্রায় সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে কংগ্রেস দল এ বিষয়টি অনুসরণ করে এসেছে। কিন্তু একমাত্র বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির সময় থেকে উগ্র হিন্দুত্ববাদের শ্লোগান দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে'।
নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখনও উগ্র হিন্দুত্ববাদের শ্লোগান দিয়ে এমনভাবে ধর্মের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন যে হিন্দুত্ববাদীরা চরম মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে পড়ে এবং তারা ওই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সমস্ত মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করেছিল এবং শত শত মানুষকে হত্যা করেছিল, হাজার হাজার মুসলিম ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছিল স্থানীয় বিজেপির হাতে যা ছিল ওই দশকের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জি কুমার সিমইয়াদু বলেছেন, 'বিজেপি সরকার হিন্দুত্ববাদের শ্লোগান দিয়ে বেশ কবার ক্ষমতায় এসেছে এবং এখনো ক্ষমতায় আছে। কিন্তু তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক বহু সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে তাদের ওই হিন্দুত্ববাদী শ্লোগানের কৌশল এখন আর কাজে দেবে না। সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন ভারতের জনগণ আবারো জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও ঘৃণা অনেক বেড়েছে এবং বড় দুই দল পরস্পরকে বদনাম করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত'।
এ ছাড়া, সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মকাণ্ডের প্রতি সাধারণ হিন্দুদের সন্তুষ্টির মাত্রা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে এবং একই সময়ে মুসলমানদের অসন্তোষের মাত্রা প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মুসলমানরা অনেক বড় ফ্যাক্টর যার প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়বে বলে অনেকে মনে করেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।