বাংলাকে কলুষিত করতে মদদ দিচ্ছে দিল্লির সরকার : কুণাল ঘোষ
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গে বলেছেন, বাংলাকে কলুষিত করতে মদদ দিচ্ছে দিল্লির সরকার। গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেছেন, ‘বামফ্রন্ট, বিজেপি, কংগ্রেস, আইএসএফ হোক তাদের চেষ্টা করেছিল সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে না হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ১৩/১৪টা জেলায় নির্বিঘ্নে, কোনও ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ৬১ হাজার ৫৩৯ টি বুথের মধ্যে মাত্র ৬০টি বুথে ঝামেলা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে যা খুব নগণ্য।’
পশ্চিমবঙ্গে শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন তিনশোর বেশি মানুষ। এদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগসহ ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ভাঙচুর, মারধর, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে অবশ্য বলা হয়েছে, তাদের কাছে এদিন বিকেল পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর রিপোর্ট এসেছে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বিরোধীরা বুঝে গেছেন, বাংলার মানুষের সঙ্গে তারা নেই। বিপুল জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। ‘নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা’। বাংলাকে কলুষিত করতে হবে, সেজন্য মদদ দিচ্ছে দিল্লির সরকার। ‘বিজেপির দুই ভাই, সিপিএম আর কংগ্রেস আই’। আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি। নিশ্চয়ই কোনও ঘটনা ঘটলে দেখাবেন। কিন্তু ৬১ হাজারের বেশি নির্বাচনী বুথে যখন গণতন্ত্রের উৎসব চলছে, আপনারা সেই ছবিটা বাংলার তুলে ধরবেন না!’
তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধীদল আর কেউ কেউ তারা আতঙ্কের মার্কেটিং করছে! আতঙ্কের বিপণন চলছে! ৬১ হাজারের বেশি বুথ, তার মধ্যে ৭/৮/৯টিতে বড় ঘটনা, আর বড় জোর ৬০টিতে ছোটো বড়, পাঁচ মিনিটের গণ্ডগোল, আধ ঘণ্টার গণ্ডগোল, পাড়ার ধাক্কাধাক্কি, এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা একজনের মৃত্যুও চাই না। কিন্তু অধিকাংশ যারা মারা গেছেন তারা তৃণমূলের।’
অন্যদিকে, বিরোধীরা এই নির্বাচনকে প্রহসন বলে অভিহিত করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ এমপি বলেছেন, ‘মমতা সরকারের অধীনে বাংলায় গণতন্ত্র লঙ্ঘিত হচ্ছে, তবুও গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার তাণ্ডবকে থামছেন না মমতা। এটা দুর্ভাগ্যজনক! অন্যদিকে, কংগ্রেসসহ সমস্ত বিরোধী দল এ বিষয়ে নীরব, এটি তাদের দ্বিচারিতার প্রমাণ।’
নির্বাচনে সহিংসতা ও অন্যান্য ইস্যুতে শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা।
নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা করে বলেন, ‘আজকে বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছে, এটা ২০১৮ সাল না, এটা ২০২৩ সাল। শুধু বামপন্থি কর্মী নয়, শুধু কংগ্রেস কর্মী নয়, শুধু ‘আইএসএফ’ কর্মী নয়, তৃণমূলের যে ক’জন কর্মী মারা গেছেন, তাদের প্রত্যেকটা রক্তবিন্দুর দায় কালীঘাটের মমতা ব্যানার্জির’ বলেও মন্তব্য করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।