মণিপুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইম্ফলে গেলেন তৃণমূল প্রতিনিধি দল, প্রশ্ন বিজেপির
ভারতে গোলযোগপূর্ণ মণিপুরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজধানী ইম্ফলে গেছেন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল।
আজ (বুধবার) সকালে ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দল মণিপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং সুস্মিতা দেব। মণিপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সব পক্ষের সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিজ্ঞতা জানবেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। তারপর রিপোর্ট আকারে তা তুলে দেওয়া হবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।
এ প্রসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ ঘোষ এমপি বলেন, ‘ওরা যান সব জায়গায়, উত্তর প্রদেশে যান, এদিকে যান, ওদিকে যান। কিন্তু এখানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এত লোক মারা গেছেন, আমি প্রশ্ন করতে চাই, তৃণমূলের ক’জন নেতা, মন্ত্রী বা মমতা ব্যানার্জি ক’জনের বাড়ি গেছেন? ওরা কেবল তালিকা দিচ্ছেন, কার ক’জন মারা গেছে। বিভাজন করছেন লাশের উপরে।’
মণিপুরে যাওয়া প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য সুস্মিতা দেব বলেন, ‘মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে সমস্ত দেশই অবগত। সেখানে যে ধরণের সহিংসতা চলছে, মণিপুর সরকার এ ব্যাপারে ব্যর্থই বলা যায় এ ব্যাপারে। মমতাদি নিজে ওখানে যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দফতর থেকে কোনও জবাব পাননি। তারপরে এই প্রতিনিধি দলকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উনি।’ তিনি আরও বলেন, মণিপুরে সব পক্ষের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চান তারা। কেন সমস্যা, কোন পথে সমাধান— স্থানীয়দের মুখ থেকেই শুনতে চান তারা।
প্রসঙ্গত, ‘মেইতেই’ সম্প্রদায়কে ‘তফসিলি উপজাতি’র মর্যাদা দেওয়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে গত ৩ মে থেকে মণিপুরে মেইতেই সম্প্রদায় এবং উপজাতীয় কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা শুরু হয়। সম্প্রতি মণিপুর হাই কোর্ট ‘মেইতেই’দের ‘তফসিলি উপজাতি’র মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই ‘উপজাতি’ বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে তার বিরোধিতায় মাঠে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই সহিংসতার সূচনা হয় সেখানে।
কুকি এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকজন কার্যত একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজারের বেশি। এ সব ঘটনায় ৬ হাজার মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ১৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোলযোগপূর্ণ রাজ্যটিতে কেন্দ্রীয় সরকার নানাভাবে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু অশান্তি না থামায় বিরোধীরা ওই ইস্যুতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে বার বার চেপে ধরছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।