পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ: হতাহত ১৫, অধীর-শুভেন্দুর তীব্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/india-i127370-পশ্চিমবঙ্গে_বেআইনি_বাজি_কারখানায়_বিস্ফোরণ_হতাহত_১৫_অধীর_শুভেন্দুর_তীব্র_প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গের দত্তপুকুরের বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জন নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ৮ জনের।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ২৭, ২০২৩ ১৪:০৫ Asia/Dhaka
  • পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ: হতাহত ১৫, অধীর-শুভেন্দুর তীব্র প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গের দত্তপুকুরের বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জন নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ৮ জনের।

হাসপাতালে যাদের চিকিৎসা চলছে, তারা হলেন, ২০ বছরের রেশমা খাতুন, ১৭ বছরের মাসুমা খাতুন, ৪০ বছরের আশুরা বিবি, সেরিনা বিবি, ১৪ বছরের  সানাউল আলি, ৫০ বছরের শমসের আলি, ৫২ বছরের সাইদুল আলি। আহতদের মধ্যে একটি ৮ বছরের ছেলেও রয়েছে।

এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী, প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি ও অন্যরা রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।  বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী আজ বলেন, ‘গোটা রাজ্যটাই বেআইনি। মুখ্যমন্ত্রীর নজর কীভাবে চোরেদেরকে বাঁচানো যায়, তার পরিবারের যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে কী করে বাঁচানো যায়, এটাই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য। স্বাভাবিকভাবে এই ধরণের একজন অশিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্য চললে তার পরিণতি যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বড় বড় লেকচার দিয়েছিলেন, মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে টিম তৈরি হয়েছে, বেআইনি বাজি কারখানাকে সরিয়ে দেওয়া হবে, তাদের রুটিরুজির জন্য আলাদা ব্যবস্থা হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি।’ 

প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি বলেছেন এই সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সরকার শুধু ব্যর্থতার দলিল লিখছে। যে সরকার ব্যর্থতার দলিল লিখবে বলে ঠিক করে ফেলেছে, সেই সরকারের নেতৃত্বে এই বাংলায় মানুষের নিরাপত্তার সম্ভাবনা দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। মানুষের জীবন বড় সস্তার হয়ে যাচ্ছে এই বাংলায়। কারণ, বাংলার তৃণমূল সরকার ব্যর্থতার দলিল লিখতে ব্যস্ত।’ 

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ অবশ্য বেআইনি বাজি কারখানা প্রসঙ্গে ‘আইএসএফ’-এর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি আজ বলেন, আমরা যদি জানতাম, তাহলে তো ব্যবস্থা নিতাম। প্রশাসনকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। রথীন ঘোষের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক ও পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকি। তার বক্তব্য- গরিবদের কাজে লাগিয়ে অনৈতিক কাজ করায় তৃণমূল, অঘটন ঘটলে বিরোধীদের ঘাড়ে দোষ চাপায়।  

এদিকে, আজ (রোববার) দত্তপুকুরের মোচপোল গ্রামে যে বাড়িতে বেআইনি বাজি  কারখানা ছিল সেটি বিস্ফোরণে ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে সংশ্লিষ্ট  এলাকার একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ঘটনাস্থলে একাধিক লাশ ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ- শাসকদলের যোগসাজসেই এই বেআইনি বাজির কারবার চলত। এ নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়ে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় ভানু বাগ নামে এক ব্যক্তির বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দত্তপুকুরের নীলগঞ্জের ঘটনায় শামসুল নামে এক ব্যক্তির কথা জানা গেছে। তার বাড়িতে ওই বেআইনি বাজি কারখানা চলত। গত ২২ মে বজবজে বেআইনিভাবে রাখা বাজি বিস্ফোরণে ৩ জনের নিহত হয়েছিল। তার আগে, ২০ মার্চ মহেশতলায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ৩ জনের। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল দত্তপুকুরের নাম।#

  

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২৭      

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।