বিজেপির কারণে মণিপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে: মল্লিকার্জুন খাড়গে
https://parstoday.ir/bn/news/india-i128632-বিজেপির_কারণে_মণিপুর_রণক্ষেত্রে_পরিণত_হয়েছে_মল্লিকার্জুন_খাড়গে
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিজেপিশাসিত মণিপুরে চলমান সহিংসতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে টার্গেট করেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩ ১৩:৪৮ Asia/Dhaka
  • মল্লিকার্জুন খাড়গে
    মল্লিকার্জুন খাড়গে

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিজেপিশাসিত মণিপুরে চলমান সহিংসতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে টার্গেট করেছেন।

তিনি আজ (বুধবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া মণিপুরের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, অশান্তি নিয়ন্ত্রণে এটিই হবে প্রথম পদক্ষেপ। কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ-  রাজ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে অস্ত্র করা হয়েছে। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে মণিপুরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অভিযোগ করেছেন। কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, মণিপুরের মানুষ ১৪৭ দিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী সে রাজ্যে যাওয়ার সময় পাননি। এই সহিংসতায় শিক্ষার্থীদের টার্গেট করার ভয়াবহ ছবি আবারও গোটা দেশকে হতবাক করেছে।

এদিকে আজ মণিপুরে ১৯ টি থানা এলাকা বাদে রাজ্যটিকে অশান্ত এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৩ মে উপজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’(এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচি ঘিরে মণিপুরে   অশান্তির সূত্রপাত।

মণিপুর হাই কোর্ট ‘মেইতেই’দের তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই উপজাতি বিভিন্ন সংগঠন তার বিরোধিতায় মাঠে নামলে সেখানে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কমপক্ষে দু’শো জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকার নানা ভাবে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করলেও রাজ্যটিতে অশান্তি ও গোলযোগ অব্যাহত থাকায় বিরোধীরা ওই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে চেপে ধরেছে।        

এদিকে, গোলযোগপূর্ণ মণিপুরে গত জুলাই মাস থেকে খোঁজ ছিল দুই মেইতেই শিক্ষার্থী হিজাম লিনথোয়িংগাম্বি (২০) এবং ফিজাম হেমজিতের (১৭)।

সম্প্রতি মণিপুরের জঙ্গলে তাদের লাশ পড়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে প্রকাশ- শিক্ষার্থীদের পিছনে অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যদিও তাদের লাশ সরকারিভাবে উদ্ধার করা যায়নি বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল (মঙ্গলবার) ইম্ফল উপত্যকায়  প্রতিবাদ মিছিল বের করেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছিল, ওই ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। প্রতিবাদ মিছিল মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের দিকে এগোলে পথ আটকায় পুলিশ।বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেধড়ক লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটাতে হয়। এরফলে আহত হন এক শিক্ষকসহ ৫৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী শিক্ষার্থী অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, মণিপুরের শিশুরা জাতিগত বিদ্বেষের শিকার। তাদের রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা ঘটছে। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার নির্লজ্জের মতো নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

এদিকে, রাজ্য সরকার দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত ভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘সিবিআই’কে দিয়েছে।

সরকার অপরাধীদের চরম শাস্তি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে। দোষীদের রেহাই দেওয়া হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং মন্তব্য করেছেন। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর সন্ধে ৭টা ৪৫ পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ থাকবে। দুই ছাত্রের লাশের ভাইরাল ছবি ঘিরে অশান্তির জেরেই ওই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত স্কুল  আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২৭ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।