ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ
গোটা ভূখণ্ডটাই ছিল ফিলিস্তিনের, যেটা দখল করেছে ইসরাইল: শরদ পাওয়ার
-
শরদ পাওয়ার (ফাইল ফটো)
গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর হামলার বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বে যখন তোলপাড় চলছে এবং নিন্দার ঝড় উঠেছে তখন ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতারা। অন্যদিকে, বিজেপিবিরোধী বিভিন্ন দলের নেতা ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। ইসরাইলে হামাসের রকেট হামলার পর সরাসরি ইসরাইলের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিন্দুত্ববাদী নেতৃবৃন্দ হামাসকে 'সন্ত্রাসী' বলে মনে করছে। কেউ কেউ আবার হামাসকে বিজেপির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার অত্যন্ত জোরালোভাবে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ওই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। এর পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার সম্প্রতি বলেছেন, ‘গোটা ভূখণ্ডটাই ছিল ফিলিস্তিনের, যেটা দখল করেছে ইসরাইল। ওই জমি, বাড়িঘর সমস্তটাই ফিলিস্তিনিবাসীর ছিল, যা তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরাইল এ ক্ষেত্রে বহিরাগত। জবরদখল করে তারা নিজের দেশ গড়েছে।’
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের চিরাচরিত ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, অটলবিহারী বাজপেয়ী —এদের সকলের ইসরাইল-ফিলিস্তিন নিয়ে একই মত ছিল। এটা ভারত সরকারের বরাবরের অবস্থান। ভারত বরাবরই সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে থাকে, যারা ভূ-ভাগের মূল অধিবাসী।’
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে টার্গেট করে বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে এই প্রথমবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইসরাইলের পাশে দাঁড়ালেন, প্রকৃত বিষয়টিকে অবজ্ঞা করলেন। এ ব্যাপারে অন্তত এনসিপি’র অবস্থান স্পষ্ট। যারা ভূ-ভাগের মূল অধিবাসী, আমরা তাদের পাশে আছি।’
এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের এ ধরণের মন্তব্যের পর মাঠে নেমেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি এনসিপি নেত্রীকে সুপ্রিয়া সুলেকে কটাক্ষ করে বলেছেন, মনে হচ্ছে এনসিপি প্রধান তার মেয়ে সুপ্রিয়াকে হামাসের হয়ে লড়াই করতে গাজায় পাঠাবেন।
পাল্টা জবাবে আজ এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এমপি বলেন, আমি অবাক হয়েছি কারণ হিমন্তবিশ্ব শর্মার আমার মতো একই ডিএনএ রয়েছে, তিনি মূলত কংগ্রেসের। তার এবং আমার একই ডিএনএ। আপনি জানেন বিজেপি কীভাবে মহিলাদের অপমান করে। কিন্তু হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাছে আমার প্রত্যাশা ছিল। আমি ভাবছি কীভাবে এই পরিবর্তন এবং মহিলাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এসেছে। সম্ভবত বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি কিছুটা অসন্তুষ্ট বোধ করছেন।
এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী) নেতা জিতেন্দ্র আওহাদ বলেছেন, ‘তিনি মনে করেন না যে, হিমন্তবিশ্ব শর্মার মতো লোকেদের গুরুত্ব দেওয়ার দরকার আছে। যাদের মধ্যে বিদ্বেষ রয়েছে, তারা জানে না আন্তর্জাতিক রাজনীতি কাকে বলে। কারণ, ফিলিস্তিন মুসলিমদের সঙ্গে যুক্ত এবং মুসলিম বিদ্বেষকে ভারতে নিয়ে আসা উচিত, এটাই তাদের একমাত্র পরিকল্পনা। এই যুদ্ধকে ভারতে মেরুকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এমপি আজ বলেন, ‘অসমের মুখ্যমন্ত্রী যে দলের, তারা হামাসের থেকে কোনো অংশে কম নয়। ওনার আগে ইতিহাস পড়া ও বোঝা উচিত। তিনি যদি বিজেপিতে থাকেন, তাহলে তার জানা উচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ফিলিস্তিন-ইসরাইল নিয়ে কী ভূমিকা ছিল।
আরজেডি নেতা মনোজ ঝা এমপি বলেছেন, ‘এটি একটি মানবিক সংকট এবং ওরা এর অভ্যন্তরীণ সুবিধা নিতে চায়। আপনি ফিলিস্তিনের প্রতি দেশের মনোভাব একবার পর্যালোচনা করুন।’
এ ভাবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ চলছে। ভারতের পাঁচ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ওই ইস্যুতে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমএআর/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।