মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ইসরাইলি বর্বরতার পৃষ্ঠপোষকতা করছে: সীতারাম ইয়েচুরি
ভারতে সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ইসরাইলি বর্বরতার পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
ফিলিস্তিনের উপরে ইহুদিবাদী ইসরাইলের নৃশংস হামলা এবং সম্প্রতি গাজায় আল-আহলি হাসপাতালে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় ইসরাইলের সমর্থনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।
সিপিআই(এম) বলেছে, যেভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু আল-আহলি হাসপাতালে আঘাত হানা হয়েছে, তা যে কোনও ‘প্রিসিসন গাইডেড মিউনিশন’ বা স্মার্ট বম্বেরই কাজ তা একেবারেই স্পষ্ট। আর এখানেই ইসরাইলকে মার্কিন মদদ আরও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর মার্কিন সংস্থা বোয়িং ইসরাইলকে এক হাজার ‘স্মার্ট বম্ব’ সরবরাহ করেছে। তাছাড়াও ইসরাইলের কাছে নিজেদের তৈরি ‘স্পাইস বম্ব’ও রয়েছে। সেই ‘স্পাইস বম্ব’ও স্মার্ট বম্ব গোত্রের মধ্যেই পড়ে। তাই হাসপাতালে হামলা যে ইসরাইলের দিক দিয়েই হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ নেই।
নজিরবিহীন এই ইসরাইলি হামলা নিয়ে ফিলিস্তিন প্রশাসন সোচ্চার হতেই ইসরাইল দাবি করতে থাকে, গাজা থেকে ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর নিক্ষেপ করা রকেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আল-আহলি হাসপাতালে গিয়ে আঘাত করে। কিন্তু ইসরাইলের ওই দাবি একেবারেই ধোপে টিকছে না।
এদিকে, মানবিক কারণে যুদ্ধ সাময়িকভাবে থামানোর যে প্রস্তাব জাতিসঙ্ঘে এসেছিল, তাতে একপেশে হয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়ে দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করায় ব্রাজিলের আনা প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘প্রথমে বাইডেন শিশুদের জবাই করার ভুয়ো খবর প্রচার করলেন এবং তারপরে সে খবর প্রত্যাহার করলেন। এখন আবার বলছেন হাসপাতালে নৃশংস অমানবিক বোমা হামলা ‘অন্য পক্ষ’ চালিয়েছে। গণমাধ্যমে যদিও অন্য খবর প্রকাশিত হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ইসরাইলি বর্বরতার পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’
সীতারাম ইয়েচুরি আরও বলেন, ‘এটাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আসল রং! গাজা স্ট্রিপে ফিলিস্তিনিদের মানবিক সাহায্যের কথা বলছেন বাইডেন, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জীবন বাঁচাতে সহায়তা প্রদানের প্রস্তাবে ভেটো দিচ্ছে!’ সিপিআই(এম) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি অবিলম্বে সম্পূর্ণ বিনাশকারী এই ইসরাইলি যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল কোচিতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময়ে সীতারাম ইয়েচুরি যুদ্ধ বন্ধ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেআইনি দখলদারি বন্ধ করতে ইসরাইলকে বাধ্য করতে সোচ্চার হয়েছেন। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী মেনে নিয়ে ইসরাইলকে জাতিসঙ্ঘের দুই রাষ্ট্রের সমাধান সূত্রকেও মানতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।
এ প্রসঙ্গে আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানের শ্রোতা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বিশিষ্ট শিক্ষক বিধান চন্দ্র সান্যাল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের যে বর্বরোচিত হামলা, বিশেষ করে হাসপাতালে যে হামলা ঘটেছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি যে বিবৃতি দিয়েছেন আমি তাকে পূর্ণ সমর্থন করি। এবং এ প্রসঙ্গে আমি এটাও বলতে চাই যে, এটা খুব পরিতাপের বিষয় যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের পররাষ্ট্র নীতিই ছিল ফিলিস্তিনি মুক্তি এবং ফিলস্তিনি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে, ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে এবং পরবর্তীতে যারা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তারাও ফিলিস্তিনের বিষয়টাকে সমর্থন করে গেছেন। কিন্তু আমরা খুব দুঃখের সঙ্গে দেখলাম যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অঙ্গুলিহেলনেই হোক আর যে বিষয় হোক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেখান থেকে সরে আসছেন। এটা ভারতের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে এক অশনি সংকেত বলে মনে করছি।’
বিধান বাবু আরও বলেন, ‘ভারতবর্ষ সব সময়ে যেকোনো নিপীড়নের ক্ষেত্রে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, আক্রমণের বিরুদ্ধে সর্বদা বক্তব্য রেখে গেছে। এবং জাতিসঙ্ঘেও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে মন্তব্য রেখে গেছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে আমরা দেখলাম যে, মোদী সাহেব ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার যে পররাষ্ট্র নীতির পরিবর্তন, সেই পরিবর্তনের ধারা আমরা লক্ষ্য করেছি তখনই জাতিসঙ্ঘে ভারত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করে দিল। এটা খুব দুঃখের বিষয়। এটা ধর্মের কোনো বিষয় নয়। এখানে বিষয়টা হল নিপীড়িত মানুষ তারা তাদের স্বভূমি কেন ত্যাগ করবে? তারা স্বভূমির দখল কেনো পাবে না? এই বিষয়টাকে আমাদের সর্বাগ্রে মাথায় রাখতে হবে।’
‘আমরা এটা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, ফিলিস্তিন একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে। আজ হোক, আর কাল হোক ফিলিস্তিনিদের জয় হবেই। এবং তারা তাদের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ফিরে পাবে। এটা আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই এবং আমরা এটাকে সমর্থন করি বলেও মন্তব্য করেন রেডিও তেহরানের শ্রোতা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বিশিষ্ট শিক্ষক বিধান চন্দ্র সান্যাল।
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।