পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ, পাল্টা চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
https://parstoday.ir/bn/news/india-i134608-পশ্চিমবঙ্গে_রাষ্ট্রপতি_শাসনের_সুপারিশ_পাল্টা_চ্যালেঞ্জ_তৃণমূলের
পশ্চিমবঙ্গের সন্দেশখালিতে তপসিলি জনজাতির মানুষজনের উপর অত্যাচারের অভিযোগে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেছে জাতীয় তফসিলি কমিশন। ওই ইস্যুতে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৪ ১৫:৩৫ Asia/Dhaka
  • পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ, পাল্টা চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গের সন্দেশখালিতে তপসিলি জনজাতির মানুষজনের উপর অত্যাচারের অভিযোগে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেছে জাতীয় তফসিলি কমিশন। ওই ইস্যুতে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

   জাতীয় তফসিলি কমিশনের চেয়ারম্যান অরুণ হালদার গতকাল (শুক্রবার) রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেছেন। তার অভিযোগ- প্রশাসন দুর্বৃত্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সন্দেশখালিতে  তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর অত্যাচার করেছে।

অরুণ হালদার বলেন, ভারতের তফসিলি জনজাতির মানুষদের সুরক্ষার্থে মাননীয় রাষ্ট্রপতি এই কমিশন তৈরি করেছেন। তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষ কোথাও অত্যাচারিত বা নিপীড়িত হলে সেই বিষয়ে তদন্ত করে তাদের কথা সরকারে কাছে পৌঁছে দিয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা এই কমিশনের কাজ। সন্দেশ-খালির ৮০ শতাংশ মানুষ তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও রাজ্যে তফসিলি জন-জাতিভুক্ত মানুষদের যদি সেখানকার সরকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি চাইলে সেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারেন। তার দাবি- ৩৩৮ ধারা লঙ্ঘন হয়েছে সন্দেশখালিতে। এই কারণ দেখিয়েই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার সুপারিশ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে। বিজেপির অভিযোগ- সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতাদের মদদে সেখানে নারীদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। 

 রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার সুপারিশ  প্রসঙ্গে আজ (শনিবার) পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, যারা বাংলায় ৩৫৬ ধারা জারির কথা বলছেন, আমরা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমরা পরিষ্কার বলছি, যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে ৩৫৬ ধারা জারি করে দেখাও। বাংলা শান্ত, এখানে অবাধ গণতন্ত্র রয়েছে, বাংলার মানুষ এসব চান না। বাংলার মানুষ তৃণমূলের পাশে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের সরকার সাংবিধানিক শর্ত মেনে রাজ্য শাসনে ব্যর্থ হলে, কেন্দ্রীয় সরকার সেই রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করে, রাজ্যের আইনি, সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে। তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন এমপি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেছেন,  ‘এ ধরনের কমিশনের সমস্ত সদস্যই বিজেপি কর্মী অথবা বিধায়ক। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের সুপারিশ পাওয়া যাবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। ডাবল ইঞ্জিন (কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যে বিজেপি সরকার) শাসিত রাজ্যে যখন অনেক বেশি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তখন এদের চোখ পড়ে না। তখন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলও যায় না, রাষ্ট্রপতি শাসনের কথাও বলা হয় না। শুধু এখানে কিছু হলেই গেল গেল রব রব তোলা হয় বলেও মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন এমপি। 

 তৃণমূল মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ওরা বাংলার গণতন্ত্রে যদি হাত দিতে আসেন, বাংলার গণতান্ত্রিক সিস্টেমের উপরে যদি নিজেদের জোর চাপাতে আসেন, তাহলে বাংলা, বাংলার নিজের মতো করে হিসাব বুঝে নেবে। গোলযোগপূর্ণ ও অশান্ত বিজেপি-শাসিত মণিপুরের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকার কেন মণিপুরে নজর রাখেনি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তৃণমূল মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য।   #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।