কাশ্মিরি নেতাদের সঙ্গে কথা বললেন সাবেক অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিং
-
সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও সিনিয়র বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের হুররিয়াত কনফারেন্স নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও সিনিয়র বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহার নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধি দল। গতকাল (মঙ্গলবার) যশবন্ত সিনহা’র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল হুররিয়াত কনফারেন্স নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি এবং মীরওয়াইজ ওমর ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কাশ্মিরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানীর হায়দারপোরার বাসভবনের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে যশবন্ত বলেন, ‘আমরা ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আসিনি। মানবিকতা এবং শুভেচ্ছার ভিত্তিতে আমরা কাশ্মিরবাসীর দুঃখ-যন্ত্রণা অনুভব করতে এসেছি।’ কাশ্মিরের সব পক্ষের সঙ্গেই তারা কথা বলার চেষ্টা করবেন বলে যশবন্ত বলেন।
এ নিয়ে হুররিয়াত নেতা মীরওয়াইজ ওমর ফারুক বলেন, ‘নয়াদিল্লি, পাকিস্তান এবং কাশ্মিরবাসী এই তিন পক্ষের উপস্থিতিতে অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মির সমস্যার সমাধান হতে পারে।’
মীরওয়াইজ ওমর ফারুক বলেন, ‘যদি এটা সরকারি প্রতিনিধিদলও হয় তাহলেও আমাদের জন্য কোনো ব্যাপার না। আমরা তাদের বলে দিয়েছি ভারত সরকারকে আপনারা জানিয়ে দিন এখানকার লোকেরা আজাদি চায়। আমাদের এই দাবির জবাবে সরকার আমাদের ওপর অনেক নিপীড়ন করেছে।’
মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এর আগে কারাবন্দী ছিলেন। সোমবার রাতে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় আমাকে মুক্তি দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে আমি জানতে পারি ওরা এখানে এসেছেন। হয়ত আমাকে এজন্য মুক্তি দেয়া হয়েছে যে, আমি যেন ওদের সঙ্গে কথা বলি। গিলানি সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন, প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং আমিও যেন তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিই এখানকার মানুষ কী চায়।’
মীরওয়াইজ বলেন, ‘গতবার (সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে) সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের কাশ্মির সফর একটি তামাশা ছিল। ইয়াসীন মালিক কারাগারে ছিলেন। গিলানিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমাকেও বাসায় আটক করে রাখা হয়েছিল। তাছাড়া ওরা কাশ্মির সমস্যার বাস্তবতা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।’
তিনি বলেন, (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ‘অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলেও আমরা সংলাপের পথে ছিলাম। তখন বাজপেয়ীজি বলেছিলেন, ভারতীয় সংবিধান নয়, মানবতার ভিত্তিতে সংলাপ হবে। এখন তো শিশুদের অন্ধ করে, তাদের বন্দি করতে এবং হত্যা করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। এটা ভারতের সংবিধানের পরিধিও নয় অথবা মানবতাও নয়।’
খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জেকেএলএফ নেতা ইয়াসীন মালিক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কাশ্মিরিদের মৃত্যু, তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, গ্রেফতারি, নিষেধাজ্ঞা এবং লোকজনকে হয়রানি করার নীতির মধ্যে দিল্লি থেকে আসা যেকোনো প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথাবার্তা বলা অনর্থক হবে।’
জেকেএলএফ সূত্রে বলা হয়েছে, দিল্লি থেকে যাওয়া প্রতিনিধিরা ইয়াসীন মালিকের সঙ্গে সাক্ষাত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ইয়াসীন মালিক ওই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেন।
কাশ্মির নিয়ে ভারত সরকার এবং হুররিয়াত নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও দিল্লি থেকে কাশ্মিরে যাওয়া প্রতিনিধিরা বলছেন, গিলানি এবং ওমর ফারুকের সঙ্গে মনোজ্ঞ আলোচনা হয়েছে।
যশবন্ত সিনহা’র নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ, বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল কপিল কাক, সাংবাদিক ভারত ভূষণ এবং সেন্টার ফর ডায়ালগ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন সংস্থার সুশোভা বারভে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৬