শ্রীনগর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন জেকেএলএফ প্রধান ইয়াসিন মালিক
-
কারামুক্ত ইয়াসিন মালিক
জম্মু-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় তাকে মুক্তি দেয়া হলে রাতে তিনি বাসায় পৌঁছান।
মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে তার মৈসুমাস্থিত বাসভবন থেকে গত ১১ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। অবশেষে প্রায় ৪ মাস পরে তিনি কারাগার থেকে বাইরে বেরোতে সমর্থ হলেন। ৮ জুলাই হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি এবং তার দুই সঙ্গী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার পরে অশান্ত পরস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী জেকেএলএফ প্রধানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তাকে গ্রেফতার করার পর প্রথমে কোটিবাগ থানায় রাখা হয় এবং পরে শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এক বেসরকারি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মির সফর করেন। ওই ঘটনার একদিন পরেই জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যশবন্ত সিনহার নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল হুররিয়াত কনফারেন্সের দুই প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী এবং মীরওয়াইজ ওমর ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সঙ্গে রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কথাবার্তা বলেন। হুররিয়াত নেতারা ওই সময় কারাবন্দী সকল কাশ্মিরি নেতাকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।
জেকেএলএফ নেতা আশরাফ বিন সালাম বলেন, গত ১১ জুলাই গ্রেফতার হওয়া মালিককে শনিবার সন্ধ্যায় কারগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। রাতে তাকে বাসায় গৃহবন্দি করা হয়েছে।
যশবন্ত সিনহার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইয়াসিন মালিক ছাড়া ওই সময় অন্য কাশ্মিরি নেতারা কথা বলেছিলেন। একমাত্র ইয়সিন মালিকই তাদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘কাশ্মিরিদের মৃত্যু, তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, গ্রেফতারি, নিষেধাজ্ঞা এবং লোকজনকে হয়রানি করার নীতির মধ্যে দিল্লি থেকে আসা যেকোনো প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথাবার্তা বলা অনর্থক হবে।’ যশবন্ত সিনহা অবশ্য ওই সময় জানান, মানবিকতা এবং শুভেচ্ছার ভিত্তিতে তারা কাশ্মিরবাসীর দুঃখ-যন্ত্রণা অনুভব করতে এসেছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩০